
ডেস্ক :
খুলনার হরিণটানার একটি মসজিদের বারান্দায় দিনমজুর মো. ডালিম গাজী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জয়নাল আবেদিন গোইন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।পুলিশ জানায়, শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে হরিণটানা থানার কৈয়া বাজার শ্রমবাজার থেকে জয়নাল আবেদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার জগদীশকাটি গ্রামের কাশেম গেইনের ছেলে।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও হরিণটানা থানার এসআই বদিউর রহমান জানান, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে ডালিম গাজী জয়নাল আবেদিনের কাছ থেকে ২০০ টাকা ধার নেন। পরে টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।ঘটনার দিন ২৪ মে রাতে দুজনই হরিণটানা থানার জয়খালী এলাকার বায়তুল মামুর মসজিদের বারান্দায় অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে জয়নাল আবেদিন ইট দিয়ে ডালিম গাজীর মাথায় আঘাত করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলেন। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার কাছে থাকা তিন থেকে চার হাজার টাকা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।পুলিশ আরও জানায়, হত্যার পর আত্মগোপনে চলে যান জয়নাল। তিনি বাগেরহাট, ফকিরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজ করলেও খুলনার শ্রমবাজারগুলোতে আর আসেননি। এ কারণে মামলাটির তদন্ত জটিল হয়ে পড়ে।এসআই বদিউর রহমান বলেন,“ডালিম গাজী হত্যা মামলাটি ছিল অত্যন্ত রহস্যময়। আমরা কৈয়া, ডুমুরিয়া ও মোস্তর মোড়ের শ্রমবাজারসহ বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে তদন্ত চালাই। হত্যার আগের দিন জয়নালকে ডালিমের সঙ্গে কৈয়া বাজারে দেখা যায়।”তিনি জানান,কৈয়া বাজারের এক ব্যক্তি ভিডিও ফুটেজ দেখে জয়নালকে শনাক্ত করলেও তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেননি। অবশেষে গত শনিবার বিকেলে তিনি কৈয়া বাজার শ্রমবাজারে এলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যার দায় স্বীকার করেন এবং স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে সম্মত হন।উল্লেখ্য, গত ২৪ মে খুলনার হরিণটানা থানার অন্তর্গত কৈয়া বাজারের জয়খালী সেতু সংলগ্ন একটি মসজিদের বারান্দা থেকে ডালিম গাজীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই রাতেই নিহতের পরিবারের এক সদস্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
