
ডেস্ক :
খুলনায় প্রবেশ ও বের হওয়ার অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শিপইয়ার্ড-লবণচরা রোড। অথচ গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই সড়কটি যেন এক ‘মরণফাঁদ’-এ পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সংস্কারের আলো দেখেনি এই জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে লক্ষাধিক মানুষ চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করলেও, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে।স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির বেহাল দশার জন্য দায়ী বিগত সময়ের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাস্তাটির সংস্কার কাজ শুরু হলেও দুর্নীতির কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। কাজটি মাঝপথে থমকে যাওয়ায় বর্তমানে এটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।বিশেষভাবে উল্লেখ্য, বর্তমান সংসদ সদস্যের (এমপি) বাসভবনও এই রোডের পাশেই অবস্থিত। অর্থাৎ, জনপ্রতিনিধি নিজে এই সড়ক দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করেন। জাতীয় সংসদে তিনি এই সড়কের সংস্কার নিয়ে কথা বললেও, বাস্তবে সরকারি কোনো উদ্যোগে কাজের কোনো অগ্রগতি নেই। জানা গেছে, আগের কাজের সাথে জড়িতদের দুর্নীতির বিষয়টি সরকারের নজরে আসায় এই প্রকল্পে সরকারি পর্যায়ে এক ধরনের অসন্তোষ কাজ করছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণের ওপর দুর্ভোগের বোঝা হিসেবে চেপেছে।প্রশ্ন উঠেছে, জনসেবার সংজ্ঞায় যেখানে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানটি গুরুত্ব পায়, সেখানে জনগুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার এমন করুণ দশা কেন? স্থানীয়দের মধ্যে জোরালো আলোচনা চলছে—সাংসদ বিরোধী দলের হওয়ায় রাজনৈতিক রোষানলে পড়ে এই উন্নয়নবঞ্চিত কি না?এ বিষয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, “আমাদের কষ্ট দেখার কেউ নেই। এমপি মহোদয় নিজে এই রাস্তা দিয়ে চলেন, তারপরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। দুর্নীতি আর রাজনৈতিক জটিলতায় সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”শিপইয়ার্ড-লবণচরা রোডের এই বেহাল দশা দ্রুত নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয়রা।এই পরিস্থিতিতে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ ও তদারকি বৃদ্ধির কোনো বিকল্প দেখছেন না স্থানীয় সচেতন মহল।
