
শেখ মাহতাব হোসেন ডুমুরিয়া খুলনা
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় গাছে ভালো ফলন হলেও মৌসুমের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন আম বাজারে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের দরপতন। পাইকার ও ক্রেতার তীব্র সংকট থাকায় বাগান মালিক এবং সাধারণ চাষিরা বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করছেন। ফলে সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরি দিয়ে উৎপাদিত আমের উৎপাদন খরচই উঠবে কি না—তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের – বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও দরদাম স্থানীয় বড় বড় আমের আড়ত ও বাজার (যেমন: ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারো মাইল বাজার) ঘুরে দেখা গেছে, জাতভেদে আমের দাম গত বছরের তুলনায় অর্ধেকের কাছাকাছি নেমে এসেছে। বর্তমানে বাজারে পাইকারি দর চলছে।হিমসাগর ১,২০০ থেকে ১,৮০০ টাকা (মণ প্রতি)ল্যাংড়া ১,২০০ থেকে ১,৫০০ টাকা (মণ প্রতি)আম্রপালি ১,৩০০ থেকে ১,৫০০ টাকা (মণ প্রতি)চাষিদের ক্ষোভ গাছে এবার ফলন ভালো হয়েছিল। ভেবেছিলাম গত কয়েক বছরের লোকসান এবার পুষিয়ে নেব। কিন্তু বাজারে পাইকারই নেই। যে দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, ভ্যান ভাড়া আর শ্রমিকের খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে।স্থানীয় আম চাষি।দরপতনের প্রধান কারণসমূহ পাইকার ও ক্রেতা সংকট দেশের দূর-দূরান্ত থেকে বড় বড় ব্যাপারি বা পাইকাররা এখনো বাজারে ও আড়তগুলোতে সেভাবে আসতে শুরু করেননি।উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি চাষিদের দাবি, গত মৌর্ আদর্শ মের তুলনায় এবার সার, কীটনাশক, সেচ এবং শ্রমিকের মজুরি প্রায় ২৫% থেকে ৩০% বেড়েছে। কিন্তু আমের দাম কমে যাওয়ায় তারা সরাসরি লোকসানের মুখে পড়েছেন।একযোগে বাজারে আম আসা তীব্র গরম ও আবহাওয়ার কারণে বিভিন্ন জাতের আম একসঙ্গে পেকে যাওয়ায় বাজারে হঠাৎ সরবরাহ অনেক বেড়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি হওয়ায় বাজার দ্রুত পড়ে গেছে। কৃষি বিভাগের বক্তব্য উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র ডুমুরিয়া উপজেলাতেই ৬০ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ হচ্ছে, যার সাথে জড়িত প্রায় ২ হাজার ৬৭৫ জন আম চাষি।ডুমুরিয়া উপজেলা আদর্শ আম চাষী শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানানচলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হলেও বাজারে দামের আকস্মিক ধসে চরম দুশ্,িন্তায় পড়েছেন স্থানীয় আম চাষি ও বাগান মালিকরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো লাভের আশা করলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় তাদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ।জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি সময়ে এসে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে ল্যাংড়া, হিমসাগর, আম্রপালি ও মল্লিকার মতো উন্নত জাতের আমে সরবরাহ উপচে পড়ছে। তবে সেই তুলনায় ক্রেতা সংকটের কারণে পাইকারি বাজারে আমের দাম আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।চাষিদের অভিযোগ, বাগান পরিচর্যা, কীটনাশক ও লেবার খরচ যে হারে বেড়েছে, বর্তমান বাজারমূল্যে সেই উৎপাদন খরচই উঠছে না। উপজেলার আটলিয়া খর্নিয়া, টিপনা ও শোভনা,সাহস এলাকার বেশ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র গরম ও হঠাৎ বৃষ্টির কারণে অনেক আম দ্রুত পেকে গেছে। একসঙ্গে সব আম বাজারে নামাতে বাধ্য হওয়ায় আড়তদার ও পাইকাররা সিন্ডিকেট করে দাম কমিয়ে দিয়েছেন।ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, মে মাসের শেষের দিকে বা ঈদের আগে বাজার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো ছিল এবং প্রতি মণ আম ১,৬০০ থেকে ৩,৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। তবে হঠাৎ পাইকার কমে যাওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাজার দ্রুত স্বাভাবিক না হলে চাষিরা ভবিষ্যতে আম চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
