
তারিক লিটু,কয়রা (খুলনা): খুলনার কয়রা উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জেলে কার্ডধারীদের মাঝে সরকারি চাল বিতরণকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নে মোট ৬০৩ জন জেলে কার্ডধারী রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় জেলে আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, ১০০ টাকা না দিলে চাল দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত টাকা আগে জমা না দিলে চাল প্রদান করা হবে না বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে চাল না দেওয়ার কথাও বলা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।অভিযোগে আরও জানা যায়, চাল বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমকন সানার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন জেলের দাবি, যারা টাকা দিতে পারবেন তাদেরই চাল প্রদান করা হচ্ছে।এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউপি সদস্য আতিয়ার সানা সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ভিডিও ধারণের সময় তাদের ওপর হামলার উদ্দেশ্যে তেড়ে আসেন।এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমীর কুমার বলেন, অতিরিক্ত টাকা আদায় সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনিয়মের শামিল। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সরকারি চাল বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ বিষয়ে বাগালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
