
ডেস্ক :
মোহাম্মদ আবরারের করা ৫৩তম ওভারের প্রথম বলটি কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি ছুঁতেই ড্রেসিংরুমের দিকে দৌড় দিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পরিচিত সেই উদযাপনে ক্যারিয়ারের নবম টেস্ট সেঞ্চুরিটি রাঙালেন তিনি। হেলমেট খুলে তুলে ধরেন, ব্যাটে চুমু এঁকে ভাসিয়ে দেন ড্রেসিংরুমের দিকে। তখনই অন্য প্রান্ত থেকে ছুটে এসে তাকে অভিনন্দন জানান জুটির সঙ্গী মুমিনুল হকও। এরপর সেজদায় শুকরিয়া আদায় করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও বটে। কিন্তু উদযাপনটা বোধহয় একটু দীর্ঘ হয়ে গিয়েছিল। পরের বলেই ব্যাটে-বলে ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি তিনি। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে থেমে যায় তার শতরানের ইনিংস। টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে আছেন নাজমুল। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে এটি তার তৃতীয় সেঞ্চুরি—এবং খেলেছেনও সবে তিনটি ম্যাচ। শুধু তাই নয়, শেষ আট ইনিংসে ব্যাটিং করে চারবারই তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন বাংলাদেশের এই অধিনায়ক। অবিশ্বাস্য এই ফর্মে ৫ টেস্টে চারটি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট সেঞ্চুরির তালিকায় এখন তৃতীয় সর্বোচ্চ স্থানে উঠে এসেছেন ২৭ বছর বয়সী এ ব্যাটার। তার ওপরে আছেন মুমিনুল হক ও তামিম ইকবাল। ১০ সেঞ্চুরি পাওয়া তামিম অনেক আগেই প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট থেকে দূরে সরে গেছেন; বর্তমানে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তিনি। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে দারুণ এক কীর্তিও গড়েছেন নাজমুল। ৩০ ইনিংসে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ৫টিতে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মুশফিকুর রহিম ৬১ ইনিংসে নেতৃত্ব দিয়ে ৪টি শতক ছুঁতে পেরেছিলেন, আর ৩১ ইনিংসে মুমিনুল হক করেছিলেন ৩টি সেঞ্চুরি। ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সবার ওপরে নাজমুল। ১৪টি ফিফটি পেরোনো ইনিংসের মধ্যে ৯টিকেই তিনি সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। বাকি ৫ ইনিংসেও করেছেন ৬০ রানের বেশি। টেস্ট ক্রিকেটে অন্তত ২ হাজার রান করা ব্যাটারদের মধ্যে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে ডন ব্র্যাডম্যান, জর্জ হেডলির পরই অবস্থান করছেন এখন বাংলাদেশ অধিনায়ক।পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে দারুণ কিছু করার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন নাজমুল। দুই উইকেট পড়ার পর ক্রিজে এসেই তিনি সে আভাস স্পষ্ট করেন। আব্বাস ও শাহিন শাহ আফ্রিদিকে শুরুতেই অনড্রাইভে দুটি চমৎকার বাউন্ডারি হাঁকান। এরপর একপ্রান্তে পাকিস্তানি বোলারদের ওপর যেন রাজত্ব চালিয়ে যান। টপ অর্ডার ব্যাটার মুমিনুল হক দেখছিলেন, কীভাবে টেস্ট ক্রিকেটকে ওয়ানডের মতো রূপ দিয়ে ব্যাটিং করে যাচ্ছেন নাজমুল। ১২৯ বলে ১২ চার ও ২ ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, উইকেটে কাটান ১৮৪ মিনিট। এ সময় দলের সংগ্রহও দুইশ রানের ঘর পেরিয়ে যায়। তবে চা বিরতির ঠিক পাঁচ বল আগে একটি ভুল শটেই থেমে যায় তার ইনিংস। বলা যায়, সেই মুহূর্তে মনোসংযোগেও কিছুটা ছন্দপতন ঘটেছিল। নিজের ওপর ক্ষোভ নিয়ে যখন নাজমুল ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, তখন ক্রিজে নামার আগে তাকে অভিবাদন জানান মুশফিকুর রহিমও। মুমিনুলের সঙ্গে তার ১৭০ রানের জুটিও রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি এখন তাদের দুজনের।
