
ডেস্ক: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য দিন, তারিখ কিংবা তফসিল এখনো ঘোষিত হয়নি। তারপরও সারা দেশের ন্যায় জেলার ৯টি উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশলে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দিঘলিয়া উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন।জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে তাদের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র চারজনের নাম আলোচিত হচ্ছে। এরমধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি রয়েছেন তিনজন। বাকি একজন দলীয় মনোনয়ন না পেলেও প্রার্থী হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একজনের নাম শোনা যাচ্ছে। গত নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগ সমর্থিত উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ মারুফুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ আলী রেজা বাচা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন এমনটাই জানিয়েছেন তারা। তবে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার হীরা অংশগ্রহণ করবেন এমনটাই জানিয়েছেন তিনি।চেয়ারম্যান পদে যে ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি মোঃ সাইফুর রহমান মিন্টু সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শরীফ মোজাম্মেল হোসেন, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক ও জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ পারভেজ সাজ্জাদ বাবলা, জেলা বিএনপি’র সাবেক সহ-প্রচার সম্পাদক গাজী মোঃ এনামুল হাচান মাসুম, জামায়াতে ইসলামীর একক প্রার্থী হিসেবে উপজেলা কমিটির সেক্রেটারি মাওলানা মুশফিকুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দিঘলিয়া মুহতামিম রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা ও গুলো জান্নাত বালিকা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের উপজেলা সভাপতি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দিঘলিয়া উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মুফতি আজিজুর রহমান সোহেল। ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ন আহবায়ক মোল্লা সাজ্জাদ হোসেন, দিঘলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন নিপু, জেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা মাহমুদুল হাসান মিঠু, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ রাশেদুজ্জামান ও উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দত্ত।মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন- সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন আক্তার হীরা, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি রীনা পারভীন, সিনিয়র সহ-সভাপতি শিখা বেগম, জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি ও সেনহাটী ইউপি সদস্য পলি আক্তার, বিএনপি সমর্থিত ও সাবেক ইউপি সদস্য নাসরিন সুলতানা, গাজীরহাট ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রী জেরিন ও উপজেলা জামায়াতের কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ারা সাজ্জাদ।দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘মনোনয়নের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ১৯৯০ সাল থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছি। টানা ৩৫ বছর থানা বিএনপি’র নেতৃত্ব দেওয়ার রেকর্ড হলো একমাত্র আমার। ১৪টা নাশকতা মামলা খেয়েছি। ২০১৬ সালে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিজয়ী হয়েছি। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে ৭৭২ ভোটে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্মূল্যের আমলে বিজয়ী হয়েছি। আমাকে ছাড়া মনোনয়ন দেবে কাকে? আর কেউ আছে নাকি, তাকে বিএনপি’র সব ইউনিয়নের লোকজন চেনে?উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি শরীফ মোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘পরিচ্ছন্ন নেতা হিসেবে দলীয় নেতা-কর্মীসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের কাছে আমার সুনাম এবং গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। শতভাগ আশাবাদী দল আমাকে মূল্যায়ন করবে। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাব না, তবে পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেব।’গাজী মোঃ এনামুল হাচান মাসুম বলেন, ‘দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদী। তরুণ প্রজন্ম আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। উপজেলার ছয় ইউনিয়নে পরিচিতি রয়েছে।’শেখ পারভেজ সাজ্জাদ বাবলা বলেন, দু’বার উপজেলা বিএনপি’র নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। দুঃসময় দলের পাশে ছিলাম। দলীয় গ্রুপিংয়ের কারণে উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলনে ভাইটাল পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব এ কারণে ন্যূনতম ইউনিয়নের সদস্য পদ থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে। এ কারণে আমি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবো না। তবে মহানগরীর দু’টি ইউনিয়ন আড়ংঘাটা এবং যোগীপোল দিঘলিয়া উপজেলার সাথে সম্পৃক্ত। সেক্ষেত্রে দলীয় মনোনয়ন বিষয়ক সভায় নেতৃবৃন্দ চাইলে উপস্থিত থাকবো। তবে নির্বাচন করব এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দলের একটা পক্ষের বিপুল সমর্থন আমি পাব ইনশাল্লাহ’
