খুলনা, বাংলাদেশ | ২৬শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৯ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ায় নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
  তেরখাদার মধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান পদে এডভোকেট শহিদুল ইসলাম,এলাকাবাসীর আস্থা ও সমর্থনে এগিয়ে
  খুলনা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৭৪
  চলছে ভোটগ্রহণ, অনেক কেন্দ্রে নেই ভোটার
  তেরখাদা সদর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ঘোষণা দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রমিজ
  দিঘলিয়া উপজেলা নির্বাচনে বিএনপি’র সম্ভাব্য ৪ প্রার্থীর প্রচারণা, জামায়াতের একক
  রূপসার ঘাটভোগে বিএনপির পরীক্ষিত মুখ জুয়েল, চেয়ারম্যান পদে লড়াইয়ের প্রস্তুতি
  আবু সাঈদ হত্যা ট্রাইব্যুনালে ৬ আসামি, সরাসরি সম্প্রচার হবে রায়
  বেগম জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মহানগর মহিলা দলের দোয়া
  খুলনায় গ্লুকোমা রোগের চিকিৎসা পাচ্ছে মাত্র ১০ শতাংশ, অন্ধত্বের ঝুঁকিতে অধিকাংশ রোগী

খুলনায় গ্লুকোমা রোগের চিকিৎসা পাচ্ছে মাত্র ১০ শতাংশ, অন্ধত্বের ঝুঁকিতে অধিকাংশ রোগী

[ccfic]

ডেস্ক: খুলনায় গ্লুকোমা রোগে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসার বাইরে রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মোট আক্রান্ত রোগীর মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ চিকিৎসা সেবার আওতায় রয়েছে, বাকি প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রোগী চিকিৎসাবঞ্চিত অবস্থায় অন্ধত্বের ঝুঁকিতে আছেন।চক্ষু বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, গ্লুকোমা হলো “চোখের নীরব ঘাতক”। এটি এমন একটি রোগ, যেখানে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে গিয়ে অপটিক নার্ভ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একসময় দৃষ্টিশক্তি কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দীর্ঘদিন ধরা পড়ে না, ফলে রোগীরা অজান্তেই অন্ধত্বের দিকে এগিয়ে যান।চিকিৎসকরা জানান, মানুষের শরীরের মতো চোখেরও একটি স্বাভাবিক চাপ বা প্রেসার রয়েছে। সাধারণত এই চাপ ১০ থেকে ২১ মিলিমিটার মার্কারি থাকে। কিন্তু যখন এটি ২১-এর ওপরে চলে যায়, তখন চোখের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয় এবং অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করে। এ অবস্থাকেই গ্লুকোমা বলা হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, যে কোনো বয়সে গ্লুকোমা হতে পারে, তবে ৪০ বছরের পর এ রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। যাদের পরিবারে গ্লুকোমার ইতিহাস রয়েছে, যারা মাইনাস পাওয়ারের চশমা ব্যবহার করেন, ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। এছাড়া বয়সজনিত পরিবর্তন, চোখে আঘাত, জন্মগত ত্র“টি, হরমোন থেরাপি কিংবা চোখের রক্তসঞ্চালন জনিত সমস্যাও গ্লুকোমার কারণ হতে পারে। রোগটির লক্ষণ হিসেবে চোখে কম দেখা, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, তীব্র মাথা ব্যথা, চোখে ব্যথা, ঝাপসা দেখা, পানি পড়া, বমিভাব বা বমি হওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ ছাড়াই রোগটি ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে।চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে চিকিৎসকরা জানান, গ্লুকোমার চিকিৎসায় মূলত তিনটি পদ্ধতি রয়েছে চোখের ড্রপ, লেজার চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার। রোগের ধরন ও অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা নির্ধারণ করা হয়।চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ মনোজ কুমার দাস বলেন, গ্লুকোমার দু’টি প্রধান ধরন রয়েছে-ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা এবং অ্যাঙ্গেল ক্লোজার গ্লুকোমা। ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা ধীরে ধীরে অগ্রসর হয়, আর অ্যাঙ্গেল ক্লোজার দ্রুত মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।তিনি আরো জানান অনেক মানুষের মধ্যে গ্লুকোমা হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও তারা এখনও তা সম্পর্কে সচেতন নন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সময় মত চিকিৎসা গ্রহণই গ্লুকোমা প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সচেতনতা বাড়ানো এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ সনাক্ত করা গেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

 

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT