
নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনার তেরখাদা উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের লস্করপুর এলাকায় সরকারি বরাদ্দে নির্মিত একটি কাঠের আয়রন ব্রিজকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়, প্রতারণা ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় লস্করপুর ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), খুলনা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রামের লস্করপুর, ডাকঘর মোকামপুর, উপজেলা তেরখাদা ও জেলা খুলনার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ব্রিজ নির্মাণের কথা বলে অর্থ আদায় করা হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে—মো. সাইফুল ইসলাম, পিতা মৃত শফিউদ্দিন মৃধা, সাং লস্করপুর, থানা তেরখাদা। মোবাইল নম্বরও অভিযোগে সংযুক্ত করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভ্যানচালক, দোকানদার, চা বিক্রেতা, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হয়েছিল। অভিযোগে বলা হয়েছে, এতে একটি প্রতারক চক্রও জড়িত ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।পরবর্তীতে এলাকাবাসী ব্রিজের পাশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় টি.আর (কাবিখা) প্রকল্পের একটি সাইনবোর্ড দেখতে পান। সাইনবোর্ডে ব্রিজ নির্মাণের ব্যয় হিসেবে ২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা উল্লেখ ছিল। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্থানীয়রা অভিযুক্তের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি বলেন, “আমি ব্রিজ করেছি, টাকা কেন দেব?” পরে সরকারি বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরার পর রাতের আঁধারে ব্রিজের সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হয়। এরপর থেকে টাকা ফেরতের বিষয়ে নানা ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে। এতে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার হয়েছেন।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম মধুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট ও উন্নয়নমূলক কাজের নামে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের টি.আর (কাবিখা) প্রকল্পের অর্থ দিয়ে রাস্তার ইটের সলিং না করে নিজের বাড়ির প্রবেশপথ নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে।তেরখাদা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হানিফ সিকদার বলেন, “পুলটি সরকারি বরাদ্দে নির্মিত হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। যদি তিনি জনগণের কাছ থেকে আলাদাভাবে অর্থ নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি অন্যায়।”তবে অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।এলাকাবাসী জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে তারা দুদকে অভিযোগ দাখিল করেছেন। তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।অভিযোগ পত্রে দ্রুত তদন্তপূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।অভিযোগ পত্রের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, খুলনা; দুর্নীতি দমন কমিশন, খুলনা এবং তেরখাদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন রিপন শেখ (রিপন) ও মো. রবিউল ইসলামসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
