
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম -স্টাফ রিপোর্টার//মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রয়াণ একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, যা ইরাক থেকে লিবিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। শিয়া-সুন্নি নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে, মার্কিন বিরোধী তাণ্ডব চালাচ্ছে।ইরাক, লেবানন এবং ইয়েমেনে জনবিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন দূতাবাসগুলো দুর্গের মতো অবরুদ্ধ। ক্ষুব্ধ জনতা আমেরিকার মালিকানাধীন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান গুলোতে হামলা চালাচ্ছে—এটি কেবল লুটপাট নয়, বরং কয়েক দশকের পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক চরম বিদ্রোহ।আরব রাজতন্ত্রের ভিত নড়ে উঠেছে। কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে রাজপরিবারের বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্রোহের পোস্ট ভাইরাল হচ্ছে। নিজেদের দেশের মাটিতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ভিডিও শেয়ার করে উল্লাস করছে সাধারণ মানুষ।বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান যদি এই প্রতিরোধ আরও এক মাস টিকিয়ে রাখতে পারে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত ‘স্থিতিশীল’ পরিবারতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। আরব শাসকরা এখন দ্বিমুখী সংকটে—একদিকে মার্কিন চাপ, অন্যদিকে নিজ দেশের জনগণের রুদ্ররোষ।জ্বালানি যুদ্ধ ও বিশ্ব অর্থনীতির পতনও অবশ্যম্ভাবী। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়া মানে বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্বাসরোধ করা। ইরান যদি তাদের সুইসাইড ড্রোন এবং মিসাইল দিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর তেলক্ষেত্রে আঘাত হানে, তবে বিশ্ব অর্থনীতি তাসের ঘরের মতো ধসে পড়বে।দক্ষিণ এশিয়া ও ককেশাসের নতুন সমীকরণও শুরু হয়েছে। কাশ্মীরের রাজপথে ভোররাতের মিছিল কিংবা পাকিস্তানে ইরানের সমর্থনে স্লোগান—সবই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই যুদ্ধ আর মধ্যপ্রাচ্যের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই।আফগানিস্তানের তালেবান সরকার যদি এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে, তবে মধ্য এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য আমূল বদলে যাবে। অন্যদিকে, আর্মেনিয়া তাদের সীমান্ত খুলে দিয়ে ইরানকে যে কৌশলগত সুবিধা দিচ্ছে, তা ন্যাটো ও তুরস্কের জন্য এক চরম দুঃসংবাদ।তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ কি তবে অনিবার্য? বর্তমানে বিশ্ব যে পরিস্থিতির সম্মুখীন, তা ১৯১৪ বা ১৯৩৯ সালের চাইতেও ভয়াবহ। একদিকে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব, অন্যদিকে ধর্মীয় ও জাতীয়তাবাদী আবেগ। ইরান যদি তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক (হিজবুল্লাহ, হুতি, হাশদ আল-শাবি) পূর্ণশক্তিতে ব্যবহার করে, তবে ইসরায়েল ও আমেরিকার পক্ষে এই সম্মিলিত আক্রমণ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে।এটি কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি হতে যাচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর ‘গ্রেট রিসেট। খুলনা- রূপসা–থেকে -মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম – আমার ব্যক্তিগত মতামত ও চিন্তাচেতনা। তবে -এ লেখার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারেন ভবিষ্যতে।
