
খুলনার সময়ের খবর ডেস্ক :
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া-তে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা চালিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গভীর রাতে নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ জামিয়ার অভ্যন্তরে ঢুকে মুহতামিমকে হত্যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দখলের ষড়যন্ত্র করে তারা। ঘটনার সময় ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের সাহসী ভূমিকা এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে জামিয়া কর্তৃপক্ষ। হামলাকারীদের মধ্যে ৫ জনকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। ভোর ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে হামলার অপচেষ্টা জামিয়া সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী দল জামিয়ার নিরাপত্তা প্রাচীর অতিক্রম করে ভেতরে প্রবেশ করে। সন্ত্রাসীদের সুস্পষ্ট লক্ষ্য ছিল সাধারণ ছুটির সুযোগ কাজে লাগানো মুহতামিম সাহেবকে হত্যা করা আতঙ্ক সৃষ্টি করে জামিয়া দখলে নেওয়া জামিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। অস্ত্রসহ আটক ৫ সন্ত্রাসী, চাঞ্চল্যকর পরিচয় হামলার সময় জামিয়ার অভ্যন্তরে অস্ত্র হাতে ঘোরাফেরা করতে দেখে ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পাঁচজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ও হামলার সরঞ্জাম জামিয়া কর্তৃপক্ষের মতে, এসব অস্ত্র দিয়ে বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা চালানোর প্রস্তুতি ছিল। বাইরে ছিল আরও সন্ত্রাসী, পালিয়ে যায় দ্রুত নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় জামিয়ার বাইরে আরও কিছু দুষ্কৃতিকারী অবস্থান করছিল। ভেতরে থাকা সন্ত্রাসীরা আটক হওয়ার খবর পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় হামলাকারীদের নেটওয়ার্ক আরও বড় এবং সংঘবদ্ধ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেছনে ‘ওবায়দুল্লাহ হামযা চক্র’? বহিষ্কৃত শিক্ষক সাবের মাসুমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আটকদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যে কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং এর নেতৃত্বে রয়েছে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ হামযার নেতৃত্বাধীন একটি চক্র। জামিয়া কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এই চক্র অতীতেও একাধিকবার সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল। এছাড়া ঘটনায় বহিষ্কৃত শিক্ষক সাবের মাসুমের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও দাবি করা হয়। কর্তৃপক্ষ আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পর্দার আড়ালে আরও শক্তিশালী ইন্ধনদাতা ও মদদদাতা রয়েছে। তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তীব্র নিন্দা ও কঠোর বার্তা ঘটনার পর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জামিয়া কর্তৃপক্ষ বলেন, এটি শুধু একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, বরং ধর্মীয় শিক্ষা ও দেশের শান্তি-নিরাপত্তাকে অস্থিতিশীল করার গভীর ষড়যন্ত্র। আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া কখনোই সন্ত্রাসের কাছে মাথানত করবে না।
