
সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী:
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বাণেশ্বর হাইওয়েতে যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে পুঠিয়া উপজেলার পোল্লাপুকুর এলাকায় রাজশাহী–ঢাকা মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ও নিহতদের রামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রিপল-ই (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শান্ত ইসলাম। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয়ের একজন নারী ও দুইজন পুরুষের মরদেহ বর্তমানে রামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন— পুঠিয়ার আটভাগা এলাকার ময়নুল ইসলামের ছেলে মুকুল হোসেন (৩৫), সিংহপাড়ার মুশা মন্ডলের ছেলে মোজাম্মেল হক (৫০), পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার এরশাদ আলীর ছেলে রিফাত হোসেন (৩০), একই উপজেলার মোজাম্মেল হকের ছেলে রুহুল আমিন (৪০) এবং একজন শিশু। কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতদের রামেক হাসপাতালের ৮ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।
রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ও মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস জানান, পুঠিয়া থেকে দুজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। একই সঙ্গে ছয়জন আহত রোগী ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে। এছাড়া তিনজন নিহতের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
পবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি পুঠিয়ার দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই শান্ত ইসলাম নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজন— দুই পুরুষ ও একজন নারী মারা যান। তাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের সীমানা নিয়ে জেলা, মহানগর ও হাইওয়ে পুলিশের মধ্যে সমন্বয়হীনতা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। উদ্ধার কাজে বিলম্ব হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা রাজশাহী–ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করলে উভয় প্রান্তে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এডিসি) সাবিনা ইয়াসমিন বণিক বার্তাকে জানান, মহাসড়ক অবরোধের কারণে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল না। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম বলেন, অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে মহাসড়ক থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
