
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):বৃহস্পতিবার ২০ আগষ্ট ২০২৬উপকূলীয় জেলা খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এবার অসময়ের (অফ-সিজন) তরমুজ চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে। চিরাচরিত মৌসুমের বাইরে এসে লাভজনক এ ফল চাষ করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের মাঠে মাঠে এখন মাচায় ঝুলছে রসে ভরা তরমুজ।
ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের সফল কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল এবার নিজের খেতের অসময়ের তরমুজ হাতে নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। খেত ভরা ফলন আর ভালো বাজারদরের প্রত্যাশায় তাঁর চোখে-মুখে এখন মন জুড়ানো প্রাপ্তির হাসি।
খেতে পরিচর্যা করার ফাঁকে কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল বলেন, “প্রথমে অসময়ে তরমুজ চাষ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কিন্তু কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ আর নিয়মিত পরিচর্যার কারণে খেতেই অসাধারণ ফলন পেয়েছি। অসময়ের তরমুজের বাজারে আলাদা চাহিদা ও ভালো দাম পাওয়া যায়। খরচ তুলে এবার দ্বিগুণ লাভের আশা করছি। আমার এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও এখন মাচা পদ্ধতিতে অফ-সিজন তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।”উপকূলীয় আবহাওয়ায় অসময়ের তরমুজ চাষের এই প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের ছোট বন্দ গ্রামের তরমুজ চাষী মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল তিনি আরো জানান তরমুজের জাত: আস্থা জমির পরিমাণ: ৪০ শতক মোট উৎপাদন খরচ: ২০,০০০/- টাকা আনুমানিক ফলন ও বিক্রয় হিসাব: প্রাথমিক বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রা: ৪২ মণ (প্রতি কেজি ৫০/- টাকা দরে) = ৮৪,০০০/- টাকাপরবর্তী সম্ভাব্য বিক্রয়: আরও ২৫,০০০/- টাক সর্বমোট আনুমানিক বিক্রয়:১,০৯,০০০/- টাকানিট সম্ভাব্য লাভ: ৮৯,০০০/- টাকা।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, “কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তরফ থেকে আমরা কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও আধুনিক মাচা পদ্ধতির কারিগরি পরামর্শ দিয়েছি। লবণাক্ততা ও আবহাওয়া প্রতিকূল হওয়া সত্ত্বেও মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের মতো কৃষকদের পরিশ্রমে ডুমুরিয়ায় অসময়ের তরমুজের এই চমৎকার ফলন সম্ভব হয়েছে।”ডুমুরিয়া উপজেলার এই সফলতা প্রসঙ্গে খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, “খুলনার উপকূলীয় এলাকায় অফ-সিজন তরমুজ চাষ কৃষকদের অর্থনীতিতে নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। সাধারণ মৌসুমের চেয়ে ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় এতে বহুগুণ বেশি লাভ হয়। আমরা জেলাজুড়ে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির আওতায় এনে উচ্চমূল্যের এসব ফসল চাষে উৎসাহিত করছি, যা সামগ্রিকভাবে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে।”অসময়ের এ তরমুজের বাম্পার ফলন ডুমুরিয়ার কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে, যা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতে এলাকার আরও অনেক কৃষক অফ-সিজন তরমুজ চাষে এগিয়ে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
