খুলনা, বাংলাদেশ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম
  ‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ জনগণ
  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ঈদগাঁওতে সরকারি কর্মকর্তারা হারাচ্ছেন কর্ম স্পৃহা : অপপ্রচারে বাড়ছে উদ্বেগ

[ccfic]

নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও 

ঈদগাঁও উপজেলায় কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা দের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারা বাহিক অপপ্রচার,ফটোকার্ড এবং প্রমাণহীন অভিযোগ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। অপপ্রচারে কর্মকর্তারা কর্মস্পৃহা হারাচ্ছে এবং চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় রয়েছে।স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,ব্যক্তি বা বিশেষের দাবি-দাওয়া পূরণ না হলেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শুরু হয় সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রচারণা, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে তথ্য-প্রমাণবিহীন।রবিবার (২৮ জুন) এক নারী কান্নাজড়িত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাই রাল হয়। ভিডিওতে ঈদগাঁও থানার জুনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। তবে অভিযোগ পক্ষে কোন কল রেকর্ড, প্রত্যক্ষ সাক্ষী কিংবা অন্য কোন দৃশ্যমান প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।স্থানীয় সূত্র মতে, পরে একই অভিযোগকারী পক্ষ থেকেই আগের বক্তব্যের বিপরীত বক্তব্য সামনে আসে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা বানোয়াট বলে দাবি উঠে‌। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মর্যাদা,পেশাগত সুনাম ব্যাপক ক্ষুণ্ন হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।জানা যায়,ইসলামাবাদ আউলিয়াবাদের ঐ নারী থানায় একটি অনলাইন জিডি করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী তদন্তের পূর্বানুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয় এবং মেডিকেল সার্টিফিকেট সংগ্রহের জন্য রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিঠি পাঠানো হয়। তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। আইনগত সীমাবদ্ধতার কারণে তদন্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরবর্তীতে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।ঐ নারীর ভাই ও বাবা এ ব্যাপারে কিছু জানেনা, তার সাথে কোন সম্পর্ক নেই বলে জানান।স্থানীয় অনেকে জানান, ঐ মহিলার সাথে পরিবারের কোন সম্পর্ক নেই, সে ভাড়া বাসায় থাকে ও এর বিরুদ্ধে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আছে। একটি চক্র ফায়দা হাসিলের জন্য এই অপপ্রচার। স্থানীয় ইউপি সদস্য নাঈমুল ইসলাম বলেন, সে স্থানীয় মেয়ে নয়,ভাড়াবাসায় থাকে শুনছে বলে জানান। অভিযোগ উঠা মহিলার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এদিকে শুধু এই ঘটনা নয়, ঈদগাঁও থানার ওসি সহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রমাণ ছাড়া ফটো কার্ড ও নানান ধরনের পোস্ট ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের অপপ্রচার তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে এবং দায়িত্ব পালনের আগ্রহ ও মনোবল কমিয়ে দিচ্ছে।প্রশাসনিক সূত্র মতে, নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) যোগদানের এক মাস না পেরোতেই বদলি হয়েছেন। এর আগে দায়িত্ব পালনকারী ইউএনও ছিলেন মাত্র দুই মাস। ফলে মাত্র ছয় মাসে তিনজন ইউএনও বদলির নজির তৈরি হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাও বদলি হয়েছেন। স্থানীয়ভাবে অনেকের ধারণা, অতিরিক্ত চাপ ও বিরূপ পরিবেশের কারণেই কর্মকর্তারা অন্যত্র বদলির চেষ্টা করছেন।বর্তমানে ঈদগাঁও উপজেলার কৃষি, সমাজসেবা, এসিল্যান্ড, এলজিইডি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য বিভাগসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ভারপ্রাপ্ত বা চলতি দায়িত্বে পরিচালিত হচ্ছে।সচেতন মহলের প্রশ্ন, প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিচার করার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দক্ষ, সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তারা ঈদগাঁওয়ে দায়িত্ব পালনে কতটা আগ্রহী হবেন। অন্যদিকে ঈদগাঁওয়ের অসংখ্য মানুষ দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে কর্মরত। অন্যত্র তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হলে সেটিও নিশ্চয়ই গ্রহণযোগ্য হবেনা।সংশ্লিষ্টদের মতে,কোন অভিযোগ থাকলে সেটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপনে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করা উচিত। পাশাপাশি তথ্য-প্রমাণভিত্তিক সংবাদই গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। কারণ, প্রমাণহীন অপপ্রচার যেমন একজন নির্দোষ ব্যক্তির সম্মান নষ্ট করতে পারে, তেমনি প্রকৃত অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। এই অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে ক্ষীপ্ত হয়ে ঈদগাঁও উপজেলার এক সংবাদকর্মী এফবিতে লিখেন, ঈদগাঁওতে চাকুরী করতে আসা কি অপরাধ ? সরকারী কর্মকর্তাদের জন্য আতংকের পোস্টিং এ পরিণত হচ্ছে নবগঠিত ঈদগাঁও উপজেলা । পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা এতেই চরম বিরক্ত। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।ঈদগাঁও থানা ওসি বলেন,সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোন সরকারি কর্মকর্তা কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে যাচাই-বাছাই ছাড়া অপপ্রচার চালানো আইনত দণ্ডনীয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে, তবে তা অবশ্যই তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। সবাইকে গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থেকে সত্য তথ্য প্রচারে সহযোগিতা করার আহ্বান জানাই।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT