
নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে মালিকের অভিযোগ উপেক্ষা করে বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপনের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই খুঁটির মাধ্যমে একটি স-মিলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জমির মালিক। এ ঘটনায় খুঁটি অপসারণ এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের দাবিতে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেনের বাজার জোনাল অফিসে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তেরখাদা উপজেলার পশ্চিম কাটেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এম ফরিদ আহমেদ গত ২৫ জুন খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেনের বাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মৌজা কোলার মোকামপুর বাজারের উত্তর পাশে তার এবং তার স্ত্রী তাহমিনা খাতুনের নামে এসএ ২৯৭০/১ নম্বর খতিয়ানভুক্ত ও সাবেক ২০৬০৫ নম্বর দাগের খরিদকৃত জমিতে তাদের অজ্ঞাতে বিদ্যুতের একটি খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে।লিখিত অভিযোগে তিনি দাবি করেন, মল্লিকপুর গ্রামের মিকাইল ও অহিদুল, যাদের পিতা শামসুল হক, একটি স-মিল পরিচালনার উদ্দেশ্যে তার জমিতে খুঁটি স্থাপনের ব্যবস্থা করেছেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ভুল তথ্য দিয়ে প্রভাবিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এতে তার জমির ক্ষতি হয়েছে এবং ভবিষ্যতে জমির ব্যবহার ও মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।আবেদনে এম ফরিদ আহমেদ খুঁটিটিতে কোনো ধরনের বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত খুঁটি অপসারণের দাবি জানান। অভিযোগের সমর্থনে তিনি তার নামে রেকর্ডীয় পর্চার ফটোকপিও জমা দিয়েছেন।বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সেনের বাজার জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত ও পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সমস্যার বাস্তব অবস্থা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বসতবাড়ি অধ্যুষিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স-মিল পরিচালনা করায় স্থানীয়রা নানামুখী সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে শব্দদূষণ, পরিবেশগত ক্ষতি এবং জনভোগান্তির বিষয়টি নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। তারা দাবি করেন, আবাসিক এলাকার মধ্যে এ ধরনের কার্যক্রম স্থানীয় পরিবেশ ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ এবং পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
