
এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
কালের পরিক্রমায় কক্সবাজারের ঈদগাঁওর গ্রামীন জনপদ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুকুর- জলাশয়, সংরক্ষণের দাবী। এক সময়ে পাড়া মহল্লাজুড়ে পুকুর ছিল। সেসব পুকুরে খোলামেলা পরিবেশে স্বাচ্ছন্দের সাথে গোসলে করত এলাকার লোকজন। পূর্বেকার সময়ের চিত্র দিনদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। খাল-জলাশয় ও পুকুর ক্রমান্বয়ে হারিয়ে যেতে বসেছে।গ্রামাঞ্চলে বর্তমানে পুকুর-দীঘির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অতীতে কয়েকটা বাড়ির পরপর পুকুরের দেখা মিলতো। যেখানে মানুষরা তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় নানান কাজকর্মে ব্যবহার করতো পুকুরটি। তথ্য মতে, ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের পাড়া মহল্লায় বড় পুকুর,জলাশয় বলতে তেমন নেই। একসময়ে আনন্দমুখর পরিবেশে বড় পুকুরে সাঁতার কেটে গোসল করত গ্রামের লোকজন। এখন সে চিত্র শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হয়ে পড়েছে। প্রবীণ মুরব্বী আহমদ হোসন জানান, গ্রামাঞ্চলে লোকজন এখন কেউ কেউ টিউবওয়েলের পানি ব্যবহার করছে, কেউবা বাড়ীঘরের বাথরুমে লাগানো আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে গোসল করছে। হাতে গোনা কয়টি বড় পুকুর থাকলেও সেগুলো নানা কারনে ব্যবহার অনুপযোগী বা সমস্যায় জর্জরিত। গ্রামীন খালগুলোর পানিও নোংরা, ব্যবহার অয়োগ্য। ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে বিষিয়ে উঠেছে পরিবেশ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ইসলামাবাদের ওয়াহেদের পাড়ায় একটি বড় দিঘী রয়েছে। এটি ব্যবহার অনুপযোগী। যেটি রক্ষায় একসময়ে মানব বন্ধনসহ প্রতিবাদে জেগে উঠছিল সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। ঈদগাঁওর উত্তর মাইজ পাড়ায় পুকুরটি ব্যবহার যোগ্য নয়। কুয়াইজ্জা পুকুর, মাইজ পাড়া মাদ্রাসা পুকুর, দক্ষিণ মাইজ পাড়া মুহাম্মদিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন পুকুর, পালাকাটা মসজিদ সংলগ্ন পুকুরটি ব্যবহার করেন যাচ্ছেন লোকজন। গোসলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার করতে চোখে পড়ে। আলমাছিয়া মাদ্রাসার পেছনে বড় পুকুরটিও ব্যবহার যোগ্য। স্থানীয়রা জানান, বর্ষায় পানি ভর্তি থাকে পুকুরটি। সর্বোপরি সম্মিলিত প্রচেষ্টাই বড় পুকুর বা জলাধারের ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে। নাহলে পুকুর শব্দটির নিশ্চিহ্ন হবে। অন্যথায় প্রাকৃতিক পরিবেশ কঠিন অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি হবে। ব্যবহার অনুপযোগী পুকুরসমূহ সংরক্ষণের মাধ্যমে পুনরায় সচলের ব্যবস্থা করা হউক।সচেতন মহলের মতে, গ্রামীন জনপদ থেকে হারিয়ে যাওয়া পুকুরসমুহ সংরক্ষণ করে সংস্কারের মাধ্যমে স্মৃতি চিহ্ন ধরে রাখার পাশাপাশি খাল, পুকুরসহ জলাধার রক্ষার্থে নানা সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসারও আহবান।
