
তালা, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:-
পাটকেলঘাটার ভূমি অফিসের নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে স্থানীয় সেবা প্রার্থীদের ইচ্ছাকৃত ভাবে হয়রানি ও মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে নাম পত্তন মিউটেশন কেস এবং খাজনা দাখিলা কাটার অভিযোগ করেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গত (০৮/০৬/২৬ সোমবার) সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা যায় যে, তরুণ কুমার সাধু পিতা পরিমল সাধু সাং জগনন্দকাটি তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমি আমার স্ত্রী পূর্ণিমার সাধু এবং আমার নামীয় বিগত ইংরেজি ৩০/০১/ ২০২৫ তাং এর ৩২৩ নং এবং ১৪-১১-২৪ তাং ৪০৭৬ নং দুটি কবলা দলিল নাম পত্তন (মিউটেশন) করতে নায়েব অফিসে গেলে, নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল আমার উক্ত জমি জমা খাস বলিয়া আমাকে জানান।তখন খাষ হিসাবে আমার ভোগ দখলীয় সম্পত্তি আমার নামে বন্দোবস্ত চাহিলে নায়েব বন্দোবস্ত দিতে অস্বীকার করিয়া আমার .৯০০ একর জমিতে অনেক টাকা চেয়ে চাপ প্রয়োগ করেন, সর্বশেষ আমার কাছে ১০,০০০ হাজার টাকা দাবি করেন।উক্ত ১০ হাজার টাকা আমি দিতে রাজি না হওয়ায় আমার কেসটি খারিজ করার আদেশ দেন এবং তিনি জানান আমার পূর্বাধিকারী দ্বয়দের জমি জমা আদালত কর্তৃক ভিন্ন নামে ভুলবশত রেকর্ড হয়েছে , যাহার সকল প্রমাণ আমার কাছে রহিয়াছে। তথ্য সংগ্রহকালে কুমিরা ইউনিয়নের রাড়ী পাড়া গ্রামের একরামুল সরদার জানান ৯/৬/২৬ মঙ্গলবার আমি ভূমি অফিসের নায়েবের কাছে আমার ৪ শতক জমির খাজনা দাখিলা কাটতে গেলে আমার কাছে ১৩ হাজার ৭০০ টাকা চাওয়া হয়, আমি এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে একপর্যায়ে আমাকে নায়েব বলেন যে, আমাকে ২০০০ টাকা দিলে আমি খরচ কুমিয়ে দিতে পারব তা নাহলে আমার দ্বারা সম্ভব নয়।তখন বাধ্য হয়ে আমি ১৫০০ টাকা দিতে চাইলে আমার দাখিলাটি তিনি কেটে দেন এবং দাখিলায় লেখা ছিল ৭৭00 শত টাকা।তাৎক্ষণিক অন্য একজন মুকুল হোসেন নামে ভুক্তভোগী এই প্রতিবেদককে জানান যে, আমি নায়েব অফিসে খাজনা দাখিলা কাটতে গেলে নায়েব তারক আমাকে হিসাব দেন ১৩ হাজার টাকা খরচের, কিন্তু আমি অনেক অনুরোধ করলেও আমার সঙ্গে গালি দিয়ে অসৎ আচরণ করেন।অতঃপর আমি অপমানিত হয়ে বের হয়ে এসে উক্ত অফিসের ছোট নায়েবের কাছে গেলে তিনি আমাকে ৩১৫০ টাকা খরচের হিসাব প্রদান করেন এবং তিনি ৩১৫০ টাকায় আমার উক্ত জমির খাজনা দাখিলার ব্যবস্থা করে দেন।এছাড়াও নাম না জানানোর শর্তে অনেকেই অভিযোগ করেন যে, নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডল প্রতি নিউট্রিশন বাবদ সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা গ্রহণ করেন এবং সামান্য ভুল ত্রুটি থাকলে তখন লক্ষ টাকার ডিল ছাড়া ফাইল গ্রহণ করেন না। মিলন ঘোষ অভিযোগ করে বলেন যে, তিনি একজন সরকারি কর্মকর্তা কিন্তু অফিসের ভিতরে সার্বক্ষণিক চেয়ারে বসেই নায়েব দামী দামী সিগারেট খেয়ে অফিসের পরিবেশ টাও নষ্ট করেন, যার ফলে তার সামনে বসে এক মিনিটও কথা বলার পরিবেশ থাকেনা।আর তাছাড়াও তার সামনে বসে মা, বোন এক জায়গায় বসে কোনভাবেই কথা বলা যায় না, কারণ তিনি কথায় কথায় ইচ্ছামত ঘুষ না পেলে ইচ্ছা মত গালি গালাজ করতে থাকেন।উক্ত বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা নায়েব তারক চন্দ্র মন্ডলের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান যে, উপর থেকে আমাদের অফিস অডিট করতে আসলে উপরের স্যারদের ম্যানেজ করার জন্য আমরা খাজনা, দাখিলা কাটতে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কিছু টাকা চেয়ে গ্রহণ করি।এ বিষয়ে তালা-পাটকেলঘাটার এসিল্যান্ড (ভূমি) রাহাত খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান যে, এমন অভিযোগ আমি আগেও একবার শুনেছি, তবে কোন ব্যক্তি সুনির্দিষ্ট প্রমাণসহ আমাকে অবহিত করলে অথবা লিখিত অভিযোগ করলে আমি সঙ্গে সঙ্গে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
