খুলনা, বাংলাদেশ | ২রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ফলোআপ ইসলামাবাদ থেকে চুরি হওয়া গরু দুইটি উদ্বার
  খুলনায় বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব খুলনা মহানগর শাখার ৪৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠিত
  ডুমুরিয়া খর্নিয়ায় মামলা-হামলার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশ
  খুলনায় ইউপি নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।চেয়ারম্যান প্রার্থী মতলেবুর রহমান মিতুল এর উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।
  কয়রার কাছারি বাড়ীর বটতলায় ১০দিন ব্যাপী বৃক্ষ মেলা অনুষ্ঠিত।
  আলী আসগর লবীর দ্রুত সুস্থতা কামনায় রংপুর ইউনিয়ন বিএনপির দোয়া মাহফিল
  ঈদগাঁওতে নতুন পর্যটন স্পট মাইজ পাড়া ভিউ পয়েন্টে বিনোদন প্রেমীদের ভীড় 
  ডুমুরিয়ার ১৪ ইউনিয়নে সবুজ বনায়ন কর্মসূচি ডুমুরিয়া ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ শুরু
  দাকোপের ব্র‍্যাকের উদ্যোগে ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত
  জালালাবাদে মোহাম্মদিয়া রওদ্বাতুত তাকওয়া মাদ্রাসায় হিফজ সবক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

স্মৃতিবিজড়িত জনপদ ঐতিহ্যবাহী ঈদগাঁও…..

[ccfic]

ঈদগাঁও, নিজস্ব প্রতিনিধি এম আবু হেনা সাগর

ইতিহাসের ধূলিকণা যেখানে গল্প বলে, সবুজ প্রকৃতি সেখানে মেতে ওঠে রূপের মিতালিতে। মোঘল শাহজাদার স্মৃতিবিজড়িত নাম আর শত বছরের বাণিজ্যিক সমৃদ্ধি নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক অনন্য জনপদ ঐতিহ্যবাহী কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়ন। কিন্তু কীভাবে এলো ‘ঈদগাঁও’ নাম। বহুবছর আগের কথা। ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দ। ক্ষমতার লড়াইয়ে রক্তাক্ত মোগল সিংহাসন। প্রাণ বাঁচাতে আরাকানের দিকে ছুটছেন শাহ সুজা । ক্লান্ত কাফেলা তাঁবু ফেলল এক অচেনা নদীর কূলে, যার নাম ছিল ‘নয়াবাদ’।ঠিক তখনই আকাশে উঠল ঈদের চাঁদ। রাজপুত্র তার বাহিনী নিয়ে এ খোলা প্রান্তরেই সেজদাহ্ দিলেন ঈদের নামাজে। রাজপুত্রের সেই ঈদের স্মৃতি,ইবাদতের মাঠ জড়িয়ে কালের পরিক্রমায় চারশত বছর পর এই জনপদের নাম হলো ‘ঈদগাঁও’। বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি মানুষের এক প্রাণবন্ত জনপদ এটি।শিক্ষার আলোয় অনন্য ঈদগাঁও। উচ্চ শিক্ষার প্রসারে এখানে রয়েছে স্বনামধন্য ঈদগাঁও রশিদ আহমদ কলেজ,ঈদগাহ আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা,ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন,শাহ জব্বারিয়া আদর্শ আলিম মাদ্রাসা,অসংখ্য স্কুল ও মাদ্রাসা। একইভাবে,ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অপূর্ব নিদর্শন এই মাটি। ইউনিয়নে মুসলিম উম্মাহর ইবাদতের জন্য রয়েছেন অসংখ্য জামে মসজিদ, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রয়েছে মন্দির।প্রকৃতি এখানে নিজ হাতে রূপের পসরা সাজিয়ে রেখেছে। মেহেরঘোনা ফরেস্ট উদ্যানে ঢুকলেই চোখে পড়বে সারি সারি আকাশছোঁয়া গর্জন গাছ। বিকেলে একটু শান্তিতে ঘুরে বেড়ানো, বন্ধু দের সাথে পিকনিক বা সুন্দর কিছু ছবি তোলার জন্য এটি চমৎকার একটা জায়গা। তবে আসল চমক লুকিয়ে আছে এখানকার রাস্তায়। মেহেরঘোনা হয়ে মাইজপাড়া সড়কটি দেখলে মনে হয় শিল্পী যেন নিখুঁতভাবে তুলি দিয়ে সবুজ রঙ করে দিয়েছেন। ঈদগাঁও-ঈদগড়ের আঁকা বাঁকা পাহাড়ি পথে বাতাসের দোলায় সমস্ত ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে মন শান্তিতে ভরে উঠবে।”এখানকার সংস্কৃতিতে মিশে আছে চাঁটগাঁইয়া ঐতিহ্যের চাটুকারিতা, মেজবানও আতিথেয়তা। তবে সময়ের আবর্তনে হারিয়েছে অনেক কিছু। একসময়ের প্রমত্তা ঈদগাঁও নদীর বুকে পাল তোলা নৌকার সেই রূপ, মাঝিদের সারি গান আর ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলা আধুনিকতার ভিড়ে কিছুটা ম্লান,যা জনপদের হারানো ঐতিহ্য।এখানে প্রতিদিনই থাকে ক্রেতা-বিক্রেতার সরব উপস্থিতি। সপ্তাহে দুই দিন বসে হাট,যেখানে বিভিন্ন এলাকার অসংখ্য মানুষ বেচাকেনার জন্য ছুটে আসেন।দিনশেষে প্রতিটি জনপদের একটা নিজস্ব সুর থাকে। ঈদগাঁওয়ের সেই সুরটি মিশে আছে তার ব্যস্ত বাজারের কোলাহলে, মেহেরঘোনার গর্জন বনের পাতায় আর আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথের শান্ত নীরবতায়। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের দীর্ঘ শ্বাস ছাপিয়ে এই জনপদ আজও অনন্য।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT