
এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও
কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার সদর ইউপি পালপাড়া-গরুর হালদার দৃষ্টিনন্দন সড়কটি যেন বিনোদন প্রেমীদের ভীড়ে বন্দি। একসময়েই এই সড়কটি অবহেলিত জরাজীর্ণ এবং চলাচলের অযোগ্য ছিল। সম্প্রতি আলোচিত হয়ে উঠেছে। ঈদগাঁও ইউনিয়নের পালপাড়া ও গরুর হালদা সড়ক দৃষ্টিনন্দনে ভরে গেছে। সেখানে স্থানীয়সহ দূর-দূরান্তের পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে। বৈকালিক সময়টা উপভোগ করার মত। সে সুযোগটা হাতছাড়াও করছেন না অনেকেই।জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ঈদগাঁও স্টেশন থেকেই মাত্র ১০ মিনিটের পথ অপরুপে সাজানো দৃষ্টিনন্দন সড়কটি। সড়কের দু-পাশ জুড়েই সবুজ ধান, অন্যপ্রান্তে সবুজ গাছ গাছালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সত্যিই মন কেড়ে নেয়। ছোট্ট একটি জলাশয়ের উপর চমৎকার আঁকাবাঁকা সড়কটি রুপ কথার কল্পকাহিনী নয়, বাস্তবিত ছবির মতো। জায়গাটি দৃষ্টিনন্দন বটেই সেলফি তুলতে আসছেন বিনোদনপ্রেমীরা। সব বয়সী মানুষের উপস্থিতি (অস্থায়ী বিনোদন) কেন্দ্রটি অল্পসময়ে পরিচিতি লাভ করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মিডিয়াতে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সড়কটি আরও জনপ্রিয়তা লাভ করে। ফলে প্রতিদিন বিকেলে ভীড় করে তরুন-তরুনী সহ নানান শ্রেনী পেশার মানুষ।এককালে পুরনো এ সড়ক দিয়ে ভালভাবে হাঁটা চলাও যায়নি। সেখানে পর্যটকদের উচ্ছাসে মুখ রিত এখন। পরিবর্তন হাওয়ায় উচ্ছাসিত ঘুরতে আসা অসংখ্য নারী-পুরুষ।সড়কের দু-পাশে গাছ লাগানোর ফলে সৌন্দর্য যেন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। সড়কে ঢুকতে চোখে পড়ে সৌন্দর্যটা। হরেক রকমের যানবাহন আর পায়ে হেঁটে আসছেন বৈকালির নির্মল বাতাসের আনন্দ উপভোগ করতে। তবেই বিশ্রাম নেওয়ার মত বসার ব্যবস্থা এখনো গড়ে উঠেনি। সড়কের দু’দিকে সবুজের সমাহার যেন চোখে পড়ার মত।নির্মল বাতাস,অক্সিজেনও ধুলোবালি মুক্ত রাখার জন্য সড়কের মাঝখানে লাগানো হয়েছে পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। যেন চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য। সড়কটি নির্মানের ফলে আমূল পরিবর্তন হয়েছে।সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, দুপুরের কড়া রোদের পরপর পড়ন্ত বিকেলে ছুটে আসে এ বিনোদন স্পটের সৌন্দর্য অবলোকন করতে নর-নারীরা। কেউ আসছে প্রিয়তমা স্ত্রী ও সন্তান কে সাথে নিয়ে,কেউবা পরিবার পরিজনের সাথে আর কেউ প্রিয়জনের সাথে,কেউ আসছে একা। স্থানীয়সহ দূরবর্তী দর্শকদের ভীড় কিন্তু কম নয়।একে অপরের সাথে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় সেলফির হিড়িক লক্ষনীয়। ঘুরতে আসা স্থানীয় অনেকে জানান, এ সড়কটি দিয়ে ঈদগড় সড়কের রাস্তার মাথা পযন্ত যাওয়া যায়। একদিকে এলাকার জন্য জনগুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে বিনোদন স্পটেই পরিনত নারী-পুরুষ দের জন্য। আরও জানা যায়, এটি পালপাড়া সরকারী প্রাথ মিক বিদ্যালয় সংযোগ সড়ক। K.F.W অর্থায়নে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কক্সবাজার সদরের বাস্তবায়নে সড়কটি নির্মিত করা হয়েছে। স্থানীয় মোহাম্মদ শফি জানান, এ সৌন্দর্য মন্ডিত পালপাড়া-গরুর হালদা সড়কটি দেখতে আসেন লোকজন। যার ফলে এলাকার সুনাম বৃদ্ধি পেল। মানুষের যাতায়াত বাড়ছে। এতে আমরাও উৎফুল্ল। জিয়াবুল হক জানান,উপজেলা জুড়েই বিনোদন কেন্দ্রের মধ্যে ইসলাপুরের খান বীচ, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের ঈদগাঁওর রেললাইন,নাসী ব্রীজ সহ সড়ক,চৌফলদন্ডী সেতু পয়েন্টের সাথে নব রুপে পালপাড়া-গরুর হালদা সড়কটি যোগ হল।কর্মজীবি আবদুল হালিম জানান, সড়কটিকে যদি আরও নান্দনিক রুপে গড়ে তোলা হয় আর বসার সু-ব্যবস্থা করা হলেই জনসমাগম বৃদ্ধি পেত। এলাকার সৌন্দর্য ধরে রাখাসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব কিন্তু এলাকার মানুষের।
