খুলনা, বাংলাদেশ | ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খর্নিয়া ইউপি নির্বাচন ঘিরে সরগরম রাজনৈতিক অঙ্গন, তৃণমূলের আলোচনায় বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান
  দাকোপে ৩ দিনের ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন।
  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম
  ‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ জনগণ
  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ

ডুমুরিয়ায় লটকনের বাম্পার ফলন: লাভবান হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল লটকনের বাণিজ্যিক চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আবহাওয়া ও মাটি অনুকূলে থাকায় চলতি মরসুমে লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় লটকন চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন এলাকার শত শত কৃষক। এক সময় বাড়ির আঙিনায় দু-একটি গাছ দেখা গেলেও, এখন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে লটকন বাগান গড়ে উঠেছে।যা বলছেন লটকন চাষী উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের সফল লটকন চাষী মোঃ মোস্তফা কামাল তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন:”আমি চার বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে ৫০টি লটকনের চারা রোপণ করেছিলাম। গত বছর থেকে ফলন আসা শুরু করেছে। এবার গাছে প্রচুর লটকন এসেছে এবং ফলের আকার ও মিষ্টি ভাব খুব ভালো। লটকন চাষের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে খরচ এবং পরিশ্রম দুই-ই কম। রোগবালাই তেমন একটা হয় না বললেই চলে। বাজারে এখন লটকনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমি পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি লটকন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি করছি। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার আমার লক্ষাধিক টাকা লাভ হবে বলে আশা করছি। এলাকার অনেক বেকার যুবক এখন আমার বাগান দেখে লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।”কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য ও পরামর্শ ডুমুরিয়া উপজেলার সার্বিক লটকন চাষ ও এর সম্ভাবনা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার, কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা বলেন:”ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মাটি ও জলবায়ু লটকন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে এখানকার উর্বর ও দোআঁশ মাটিতে লটকনের ফলন চমৎকার হচ্ছে। লটকন একটি ছায়াপ্রিয় উদ্ভিদ, তাই অন্যান্য বড় গাছের নিচে বা বাড়ির আশেপাশের অনাবাদী ছায়াযুক্ত জায়গায় এটি খুব সহজেই চাষ করা সম্ভব।আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত উন্নত জাতের চারা রোপণ, সুষম সার প্রয়োগ এবং সঠিক উপায়ে বালাই ব্যবস্থাপনার ওপর প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছি। লটকন চাষে রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম হওয়ায় উৎপাদন খরচ অত্যন্ত সীমিত, কিন্তু বাজারে এর চাহিদা ও মূল্য দুটিই চড়া। ডুমুরিয়ায় লটকন চাষের এই সম্প্রসারণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। আমরা আশা করছি, আগামী বছরগুলোতে এখানে লটকনের চাষ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং এটি স্থানীয় কৃষকদের ভাগ্য বদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ডুমুরিয়ার লটকন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে খুলনা সদরসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে সরবরাহ করা হচ্ছে। ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ এই ফলের বাজার দর ভালো থাকায় ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের কৃষকদের মুখে এখন হাসির ঝিলিক। সঠিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা গেলে লটকন চাষ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT