
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি : য়শোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী জনসাধারণ। যশোরের কেশবপুর উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের ভালুকঘর থেকে চিংড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষদের।স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে গর্তগুলো ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দ্রুত সংস্কার করা না হলে অচিরেই সড়কটি পুরোপুরি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।এই সড়কটি শুধু কেশবপুর উপজেলার মানুষের জন্য নয়, পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলা এবং সাতক্ষীরা জেলার তালা ও কলারোয়া উপজেলার হাজারো মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া কৃষিপণ্য পরিবহনেও সড়কটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভালুকঘর থেকে চিংড়া বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে ছোট-বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। ফলে যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে পারছে না গন্তব্যেস্থলে। সড়কটি দিয়ে সাগরদাঁড়ি, ঝিকরা, চিংড়া, বিষ্ণপুর, ফতেপুর, গোবিন্দপুর, মেহেরপুর, কাস্তা, বারুইহাটি, বুড়িহাটি, শ্রীরামপুর, সরাপপুর, বরণডালী, শাহপুর, মির্জানগর, হিজলতলা, পাত্রপাড়া, শিকারপুর, ভালুকঘর, চালিতাবাড়িয়া, দত্তনগর, সরসকাটি, জাহানপুর, রঘুরামপুর ও বাঁশবাড়িয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চলাচল করেন। পাশাপাশি সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার অনেক মানুষও এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। এলাকাবাসীর দাবি, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কের স্থায়ী সংস্কার এখন সময়ের দাবি।এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাব-ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আওয়ালুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কটি জেলা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি ৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে দেড় কিলোমিটার অংশ সংস্কার করা হয়েছে। অবশিষ্ট সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় দ্রুত সংস্কার করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তবে আশ্বাস নয়, দ্রুত দৃশ্যমান কাজ দেখতে চান এলাকাবাসী। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য জোর দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
