খুলনা, বাংলাদেশ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খুলনা টুটপাড়া বালুর মাঠ দারোগার বস্তি এলাকায় যুবককে গুলি
  খুলনায় ইজিবাইক থেকে নেমেই অচেতন নারী, হাসপাতালে ভর্তি
  শোভনা ইউনিয়নবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানালেন মহিলা নেত্রী রহিমা বেগম।মহিলা মেম্বার পদপ্রার্থী হিসেবে দোয়া ও সমর্থন কামনা
  খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ঈদজামাত আয়োজনের প্রস্তুতি পরিদর্শন করলেন কেসিসি প্রশাসক
  ঈদে নাশকতার কোনো সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই: র‍্যাব ডিজি
  সড়কে দুর্বৃত্তায়ন বরদাশত করা হবে না: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী
  বিশ্বকাপ খেলতে কোনো সংশয় নেই মেসির
  সাতক্ষীরায় পিকআপ-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২
  যশোরে সহযোগীসহ সন্ত্রাসী অনিক আটক, অস্ত্র উদ্ধার
  খুলনায় পশু কোরবানির জন্য ১৪০টি স্থান নির্ধারণ : কেসিসি প্রশাসক

এবারও ঈদ আসছে না গাজায়

[ccfic]

ডেস্ক :

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় টানা তৃতীয় বছরের মতো ঈদুল আজহার আনন্দ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। যুদ্ধ, অবরোধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে সেখানকার পশুপালন-খাত প্রায় ধ্বংস হয়ে পড়েছে। ফলে অধিকাংশ পরিবার এবারও কুরবানির পশু জবাই করতে পারছে না।গাজার বাসিন্দা মাজেন আল-জারজাভি আগে ঈদের সময় শত শত ভেড়া ও গরু বিক্রি করতেন। মানুষ কোরবানির জন্য তার খামার থেকে পশু কিনত। কিন্তু এখন তার খামারে কোনো পশুই নেই। জীবিকা চালাতে তিনি ছোট একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করছেন এবং সেখানে সীমিত পরিমাণে প্রবেশ করা হিমায়িত মাংস ব্যবহার করছেন।তিনি বলেন, আগে ঈদের সময় তিনি প্রায় ২০০টি ভেড়া ও গরু বিক্রি করতেন। এখন গাজায় জীবিত পশু ঢুকতেই দেওয়া হচ্ছে না। তার মতে, ইসরায়েল এমনভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করছে, যেন গাজার মানুষ শুধু কোনোভাবে বেঁচে থাকে, কিন্তু স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে না পারে।ঈদুল আজহা মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। যারা সামর্থ্যবান, তারা এ সময় পশু কোরবানি দেন এবং সেই মাংস আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন। যুদ্ধের আগে গাজায় প্রতি বছর ঈদের আগে ৪০ থেকে ৬০ হাজার ভেড়া ও গরু আমদানি হতো। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর টানা তৃতীয় বছরের মতো মানুষ কোরবানির এ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় রীতি পালন করতে পারছে না।গাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গাজার পশুপালন খাতের ৯০ শতাংশের বেশি ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি হামলা, খাদ্য ও কৃষি সরঞ্জাম পরিবহনে বাধা এবং জীবিত পশু প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার কারণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। এর ফলে পশুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। জারজাভি বলেন, বিদেশে থাকা অনেক ফিলিস্তিনি এখনো তাদের স্বজনদের জন্য গাজায় কোরবানি দিতে চান। কিন্তু তিনি তাদের বলেন, একটি ভেড়া কেনার বদলে সেই টাকা দিয়ে হিমায়িত মাংস কিনলে বেশি মানুষ উপকৃত হবে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গত নভেম্বর পর্যন্ত গাজার ৮০ শতাংশ ভেড়া এবং ৭০ শতাংশ ছাগল মারা গেছে বা ধ্বংস হয়েছে। একসময় এ খাত গাজার মানুষের জন্য তাজা মাংস ও দুধের বড় উৎস ছিল। এখন তা প্রায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।শুধু পশুই নয়, খামার, গোয়ালঘর, পশু খাদ্যের গুদাম ও পশু চিকিৎসাকেন্দ্রও ধ্বংস হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধের সংকটে পশুগুলো বাঁচিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জারজাভি বলেন, তারা পশুদের বাঁচাতে কখনো পাস্তা পর্যন্ত খাওয়ানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বোমা হামলায় আশপাশের ঘরবাড়ি ধ্বংস হলে অনেক পশু মারা যায়।বাস্তুচ্যুতির ঘটনাও পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে। পরিবারগুলো যখন বারবার নিরাপদ স্থানে পালাতে বাধ্য হয়েছে, তখন পশুদের দেখাশোনা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। গাজার সাধারণ মানুষ বলছেন, কয়েক বছর ধরে সেখানে ঈদের কোনো আনন্দ নেই। শিক্ষক মুহাম্মদ আবুরিয়ালা বলেন, কোরবানি ও মানুষের সঙ্গে মাংস ভাগাভাগির যে আনন্দ ছিল, তা এখন আর নেই। অনেক পরিবার প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT