
নিজস্ব প্রতিবেদক:খুলনার তেরখাদা উপজেলায় টানা বৃষ্টি ও থেমে থেমে ভারী বর্ষণে মাঠের পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিক সংকট ও অতিরিক্ত মজুরির কারণে বিপাকে পড়া কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আজিজুল বারী হেলাল। তার নির্দেশনায় মাঠে নেমে ধান কাটার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদাউস মেম্বার।বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে উপজেলার ৫ নম্বর তেরখাদা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাচিকাটা বিলে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ সময় কৃষক চান মিয়া শেখের দুই বিঘা জমির পাকা ধান শ্রমিক নিয়ে কেটে ঘরে তুলে দেওয়া হয়।স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে মাঠে পানি জমে ধান কাটার উপযোগী সময় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে শ্রমিক সংকট ও শ্রমিক মজুরি বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষকই নিজ উদ্যোগে ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছেন না।এমন পরিস্থিতিতে এমপি আজিজুল বারী হেলালের নির্দেশে অসহায় কৃষকদের সহায়তায় মাঠে নামেন ফেরদাউস মেম্বার। স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তিনি নিজে তদারকি করে শ্রমিকদের মাধ্যমে ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করেন।ফেরদাউস মেম্বার বলেন, “আমার অভিভাবক এমপি আজিজুল বারী হেলাল সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশনার অংশ হিসেবেই আমরা অসহায় কৃষকদের ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। কৃষকের কষ্ট লাঘব করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।”তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক আর্থিকভাবে চাপে পড়েছেন। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আগামী এক সপ্তাহ ধরে ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় কৃষকদের ধান কাটার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।কৃষক চান মিয়া শেখ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “বৃষ্টির কারণে আমার ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা ছিল। নিজের টাকায় শ্রমিক দিয়ে ধান কাটার সামর্থ্য ছিল না। এমপি হেলালের নির্দেশে ফেরদাউস মেম্বার যেভাবে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমার জীবনে বড় সহায়তা হয়ে থাকবে।”এদিকে কৃষকের জমিতে সরাসরি নেমে ধান কাটার এই উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক উদ্যোগে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো সত্যিই প্রশংসনীয় মানবিক উদাহরণ।
