খুলনা, বাংলাদেশ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  পদত্যাগ করবেন না মমতা বিজেপি কী করবে
  যুদ্ধে ইরানের জয়ের কোনো সুযোগ নেই : ট্রাম্প
  আইসিসি র‍্যাংকিংয়ে বড় সুখবর, সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের পেছনে ফেলল বাংলাদেশ
  রাজসাক্ষী হতে চান সাবেক ডিআইজি জলিল মন্ডল
  জাতীয় সংসদকে বিএনপির পরিবারতন্ত্র সংসদ বানিয়েছে জেএসএফ বাংলাদেশ
  ডুমুরিয়ায় উপজেলায় সরকারিভাবে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের উদ্বোধন
  নওগাঁর মান্দায় মাদক বিরোধী অভিযানে একজন মাদক ব্যবসায়িক গ্রেফতার
  ন্যাশনাল তরিকত পার্টি (এনটিপি)-এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা, ১৫ মে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা
  হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের স্ত্রীর রোগমুক্তি ও সুস্হতা কামনায় দোয়া।
  কেশবপুরে ব্র্যাকের আয়োজনে মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক প্রশিক্ষণ

পদত্যাগ করবেন না মমতা বিজেপি কী করবে

[ccfic]

ডেস্ক :

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরদিন ফের ‘ভোট ডাকাতির’ অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস হারেনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়িতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট। মমতা বলেন, নির্বাচন কমিশন ১০০ আসন লুট করেছে। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, ‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফা দেওয়ার প্রশ্ন কেন উঠছে?’ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ওই সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দায়ী করেছেন। মমতা বলেন, এবারের লড়াইটা বিজেপির বিরুদ্ধে যতটা ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। কমিশনই ভিলেন হয়েছে। মানুষের অধিকার লুট করেছে। বিজেপি আর কমিশনের মধ্যে বেটিং হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। আইপিএস-ডব্লিউবিসিএস অফিসারদের গণবদল থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার—সবই ছিল সুপরিকল্পিত চিত্রনাট্য। মমতা অভিযোগ করেন, এসআইআর করে ভোটার তালিকা থেকে ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সরাসরি ভোটযন্ত্রের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ‘ভোট হয়ে যাওয়ার পরও ইভিএমে ৮৫-৯০ শতাংশ চার্জ থাকছে কী করে? এটা কি সম্ভব?’গণনাকেন্দ্রে ‘হেনস্তা’ ও নিগ্রহের অভিযোগএদিন সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, গণনাকেন্দ্রে তাকে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে নিগৃহীত হতে হয়। মমতার ভাষায়, ‘ওটা সিআরপিএফ, নাকি গুন্ডাবাহিনী? আমাকে কাউন্টিং সেন্টার থেকে ধাক্কা মারতে মারতে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমাকে পর্যন্ত মারা হয়েছে। আমার সঙ্গে যদি এই আচরণ হয়, তবে বাকি প্রার্থী ও কর্মীদের সঙ্গে কী হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়।’আমরা হারিনি, জোর করে হারানো হয়েছে’রাজ্যে ২০০-র বেশি আসনে বিজেপি জিতলেও এই ফল মানতে নারাজ মমতা। তার দাবি, তৃণমূল প্রায় ২০০ আসনে এগিয়ে ছিল, কিন্তু কাউন্টিং সেন্টার ‘হাইজ্যাক’ করে জোর করে তাদের হারানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে হার-জিত থাকে, কিন্তু এখানে তো গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই হয়নি। গায়ের জোরে সিআরপিএফ দিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও মিডিয়া সরিয়ে ভোট লুট করা হয়েছে।’জাতীয় স্তরে লড়াইয়ের ডাক মমতারবিধানসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা আশিতে নেমে এলেও জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করার বার্তা দিয়েছেন মমতা। তিনি জানান, সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও উদ্ধব ঠাকরের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। কালই কলকাতায় আসছেন অখিলেশ যাদব। মমতা বলেন, ‘এখন আমি মুক্ত পাখি, মানুষের সেবায় কাজ করব। চেয়ারের পরোয়া আমি করি না। আমাকে এখন আর বিধানসভাতেও দেখা যাবে না।’রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাসের অভিযোগভোটে জয়ের পর বিজেপি রাজ্যজুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। বেলেঘাটায় তৃণমূল কর্মী খুন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে আমরা বদল চেয়েছিলাম, বদলা নয়। কিন্তু বিজেপি এখন আমাদের পার্টি অফিস দখল করছে, কর্মীদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে।’সোমবার দুপুরেই বিধানসভা ভোটের ফল মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল কোন দল জিতছে যাচ্ছে। তখনই কৌতূহল তৈরি হয়েছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কখন লোকভবনে যাবেন? কখন মুখ্যমন্ত্রিত্বে ইস্তফা দেবেন? কারণ, সেটাই রীতি। মমতার আগের ক্ষমতাচ্যুত মুখ্যমন্ত্রীরা তেমনই করে এসেছেন। মমতা যখন সোমবার রাতে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল থেকে বেরোলেন, অনেকেই তখন ভেবেছিলেন, এর পরে তিনি লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেবেন। কিন্তু মমতার কনভয় চলে যায় কালীঘাটে তার বাড়ির পথে।কৌতূহল তখনো ছিল। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে মমতা সরাসরি জানিয়ে দিলেন, তিনি ইস্তফা দেবেন না! তার দাবি, তিনি হারেননি। তাই লোকভবনে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।মমতা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফা না দেন, তাহলে কী হবে? কী বলছে সংবিধানের বিধিবিধান?আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, এমন পরিস্থিতির কথা নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে সংবিধানে কিছু বলা নেই। কারণ, কোনো মুখ্যমন্ত্রী ভোটে হেরেও যে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেবেন না, এমন পরিস্থিতিরউদ্ভব হবে বলে কেউ মনে করেননি। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু ধারণার কথা বলছেন, যা অতীতে কোনো না কোনো রাজ্যে ঘটেছে। কিন্তু ভোটে হেরে যাওয়ার পরেও বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ না করার নজির দেশে নেই। ফলে মমতা শেষ পর্যন্ত ইস্তফা না দিলে ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নতুন নজির তৈরি হবে।পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৭ মে। পদত্যাগ না করলে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই দিন পর্যন্ত মমতাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন। কিন্তু ৭ তারিখ পেরোলেই তার মুখ্যমন্ত্রীর পদ থাকবে না। ইস্তফা না দিলেও নামের আগে যুক্ত হবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটে হারলে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়াটা ‘নিয়ম’ নয়। এটি সাধারণভাবে রেওয়াজ, রীতি বা সাংবিধানিক শিষ্টাচার। যেমন ১৫ বছর আগে ২০১১ সালের ১৩ মে দুপুর ১টা নাগাদ ভোটের ফল স্পষ্ট হওয়ার পরই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য রাজভবনে গিয়ে তৎকালীনরাজ্যপাল গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে ইস্তফাপত্র তুলে দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তিনি রাজভবন থেকে সরকারি গাড়ি ছেড়ে দিয়ে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের পার্টি অফিসে গিয়েছিলেন দলের গাড়িতে করে।এদিকে, রাজ্যে কবে নাগাদ বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ হবে, তা গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। তবে সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তৃতা থেকে একটি ইঙ্গিত মিলেছে যে, বিজেপি আগামী শনিবার, ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন শপথগ্রহণের কর্মসূচি নিতে পারে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির বিভিন্ন সূত্র থেকেও তেমনই আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আজ বুধবার রাতে কলকাতায় আসার কথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। রাতেই তিনি বিজেপির পরিষদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করে নেতার নাম ঘোষণা করতে পারেন। যিনি পরিষদীয় দলের নেতা হবেন, তিনিই হবেন পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী। তিনিই রাজ্যপালের কাছে গিয়ে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আর্জি জানাবেন। তারপর হবে শপথ গ্রহণ।কলকাতা হাইকোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেছেন, মধ্যবর্তী সময়ে অনেক ক্ষেত্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে ‘তদারকি’ (কেয়ারটেকার) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজ্যপাল কাজ চালানোর অনুরোধ করেন। তেমন কেউ না হলে তিনি নিজে এক-দুদিন তদারকি করতে পারেন। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করারও সংস্থান রয়েছে। কিন্তু সাধারণত এত কম সময়ের জন্য ‘সংকট’না হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা নাও হতে পারে। তবে সবটাই নির্ভর করছে বিজেপি পরিষদীয় দল শপথের দিনক্ষণ কবে চূড়ান্ত করে তার ওপরে। কিন্তু মমতা ইস্তফা না দিলে কোনো সংকট তৈরি হবে না। কারণ, বিধানসভার মেয়াদ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই তার মুখ্যমন্ত্রিত্বের মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে হাইভোল্টেজ নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরের দিন মঙ্গলবার সকালেই বিজেপির নতুন সরকারের লক্ষ্য ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। এ রাজ্যে বিজেপির নতুন সরকার কেমন হবে, সোমবার সন্ধ্যার বিজয় ভাষণেই অবশ্য তার আভাস দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গলবার সকালে শুভেন্দুর তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পশ্চিমবঙ্গবাসীকে প্রণাম জানিয়ে বিজেপির নতুন সরকারের লক্ষ্য ঘোষণা করে শুভেন্দু লেখেন, ‘বিজেপির অঙ্গীকার এক উন্নত, সমৃদ্ধ ও নিরাপদ পশ্চিমবঙ্গ। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা গড়ে তুলব একটি সুস্থ, সুন্দর এবং উন্নত রাজ্য।রাজ্যবাসীর সেবা করাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’ তিনি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে বিকশিত ও আত্মনির্ভর পশ্চিমবঙ্গ গড়ে তোলাই বিজেপির দৃঢ় অঙ্গীকার।২০০-এর বেশি আসনে জিতে ভোট ময়দানে তৃণমূলকে ধরাশায়ী করেছে বিজেপি। এই জয়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গবাসীকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘এই জয় প্রত্যেক দেশপ্রেমিকের জয়। ভোটপর্ব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচনকমিশন, সরকারি কর্মী, কেন্দ্রীয় বাহিনী, রাজ্য এবং কলকাতা পুলিশকেও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। সোমবার সন্ধ্যার বিজয় ভাষণের সময়েই পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আভাস দেন মোদি। বুঝিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য পূরণ করতে ‘বিকশিত পশ্চিমবঙ্গ’কেও প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী এও জানান, ভারতের উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে, তাল মিলিয়ে চলবে পশ্চিমবঙ্গ।কে হচ্ছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী?২০০-এর বেশি আসন নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি। শুরু হয়েছে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। বিজেপির রাজ্যের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা হচ্ছে দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকার গঠনের চূড়ান্ত তৎপরতার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে চলছে আলোচনা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একাধিক হেভিওয়েট নাম নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় এগিয়ে আছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি ছাড়াও বিজেপি প্রার্থীস্বপন দাশগুপ্ত ও রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নাম নিয়েও জল্পনা চলছে।আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারণার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বারবারই বলেছিলেন, কোনো এক বাঙালিই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবেন। পশ্চিমবঙ্গে জন্মানো এবং বাংলা মাধ্যমের স্কুলে পড়াশোনা করা কাউকেই যে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, তাও স্পষ্ট করেন তিনি।শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের সম্ভাব্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে যেসব প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে তাদের একটি তালিকা তুলে ধরেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। তাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বর্তমানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রভাবের জন্য তিনি সুপরিচিত। এ নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখোমুখি হন। পাঁচ বছরআগে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে হেরে যান মমতা। এবার নিজের ঘর ভবানীপুরেও হারলেন মমতা, সেই শুভেন্দুর কাছেই। ২০২১ সালের নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে শুভেন্দুর বিজেপিতে যোগ দেওয়া তৃণমূল নেত্রীর জন্য বড় ধাক্কা ছিল।যদিও ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে ব্যর্থ হয়ে ৭৭টি আসনে আটকে যায়, তবুও শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতার পদ পেয়েছিলেন। এরপর টানা পাঁচ বছর তিনি বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আগ্রাসী ভূমিকা পালন করেন।ভোটের প্রচারণা পর্বে শুভেন্দুর মনোনয়নে সঙ্গী হয়েছিলেন অমিত শাহ। ওই সময় তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপির ‘চার্জশিট’ প্রকাশের মঞ্চেও শাহ স্পষ্ট করেছিলেন দলে শুভেন্দুর গুরুত্ব।শমীক ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী পদের দৌড়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নামও শোনা যাচ্ছে।আরএসএসের আদর্শে গড়ে ওঠা এ অভিজ্ঞ নেতা সমাজের বিভিন্ন স্তরে দলের ভিত্তি প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি রাজ্যসভার সদস্য এবং গত কয়েক বছরে রাজ্যে বিজেপির শক্তি বাড়াতে তার বিশেষ অবদান রয়েছে। বিজেপি যদি রাজ্যটিতে একজন ভদ্রলোক মুখ্যমন্ত্রী খোঁজেন শমীক ভট্টাচার্য হবেন অন্যতম সেরা বিকল্প। শহুরে মধ্যবিত্ত এবং সংস্কৃতিমনস্ক বাঙালির মন স্পর্শ করতে শমীক ভট্টাচার্যকে দলের রাজ্য সভাপতি করেছে বিজেপি।স্বপন দাশগুপ্তসাবেক সাংবাদিক স্বপন দাশগুপ্ত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির দৈনন্দিন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হন। রাজ্য বিজেপির আরেক ‘ভদ্রলোক মুখ’ হিসেবে পরিচিত স্বপন দাশগুপ্ত দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তাই স্বপন দাশগুপ্তও মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় থাকতে পারেন।দিলীপ ঘোষসাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের এখনো মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার নেতৃত্বেই ২০১৯-সালের লোকসভা এবং ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছিল। তিনি দলের অভ্যন্তরে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার তালিকায় তার নামও থাকতে পারে।সুকান্ত মজুমদার:রাজ্য বিজেপির আরেক সাবেক সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বিজেপি তাদের শক্তিশালী ঘাঁটি উত্তরবঙ্গ থেকে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বেছে নিতে চাইলে তিনি অন্যতম পছন্দ হতে পারেন বলেও জল্পনা রয়েছে।সরানো হলো মমতার বাড়ির গলির মুখের ‘সিজার ব্যারিকেড’

 

 

বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে যাওয়ার গলির মুখে যে ‘সিজারস ব্যারিকেড’ ছিল, তা সরিয়ে দেওয়া হলো গতকাল মঙ্গলবার সকালে। এ ছাড়া, তৃণমূলের লোকসভার নেতা তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের দপ্তরের সামনে থেকে সরে গেল পুলিশি প্রহরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শেক্সপিয়র সরণি থানার অন্তর্গত ওই এলাকা থেকে হঠাৎই পুলিশ প্রহরা তুলে নেওয়া হয়।এতদিন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর বাড়ির দিকে রাস্তায় এগোনোর ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল। পরিচয় জানতে চাওয়া হতো। কী কাজ, কার সঙ্গে দেখা করবেন—এমন নানা প্রশ্ন করতেন মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা। এক রাতেই সে সব অতীত। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের ঠিক পরের দিন সকালে দেখা গেল, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে নিরাপত্তারক্ষী রয়েছেন। কিন্তু তারা কাউকে আটকাচ্ছেন না। ‘সিজারস ব্যারিকেড’-ও খোলা। দক্ষিণ কলকাতার ‘কড়াকড়ি গলি’ এখন অবাধ।রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবি এবং বিজেপির বিপুল জয়ের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কালীঘাট জুড়ে মিছিল করেছেন পদ্মশিবিরের কর্মী-সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির অদূরের রাস্তাতেও বাইক নিয়ে মিছিল হয়েছে। কিন্তু সোমবার রাতে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের গলির মুখে একই রকম ভাবে ছিল ‘সিজারস ব্যারিকেড’। অর্থাৎ, দুটি গার্ডরেল কাঁচির মতো করে রাস্তার মুখে রাখা থাকত। পথচারীরা কেউ ওই গলি দিয়ে যেতে চাইলে জিজ্ঞাসাবাদ করে তবেই ছাড়পত্র দিতেন নিরাপত্তারক্ষীরা। ফাঁক হতো ব্যারিকেড। গলিতে ঢুকলেই আবার বন্ধ হতো ‘সিজারস ব্যারিকেড’। এলাকায় থাকত সাদা পোশাকের পুলিশও। গলিতে ঢোকা যে কোনো আগন্তুকের দিকে নজর থাকত তাদের। গাড়ি নিয়ে ঢুকলেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো, তথ্য যাচাই করে তবেই গলি দিয়ে যাওয়ার অনুমতি মিলত।কিন্তু মঙ্গলবার সকাল হতেই দেখা গেল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের সেই কাঁচির মতো ব্যারিকেড একদিকে সরানো। এদিন সকালে শশব্যস্ত এক যুবককে ওই গলি দিয়ে বের হয়ে আসতে দেখা গেল। পরিচয় জিজ্ঞাসা করায় তিনি জানালেন, নাম রাজু মাহাতো। মমতার প্রতিবেশী। ঠিক উল্টো দিকের গলিতে থাকেন। ব্যারিকেড সরে যাওয়ার কথা তুলতেই তিনি বললেন, ‘দেখতেই তো পাচ্ছেন, যাওয়া-আসায় কোনো বাধা নেই।’ ফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব কড়াকড়ি শেষ হয়ে গেল।এদিকে ভোটের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে:অশান্ত কুলতলিভোটের ফল প্রকাশের পরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি। পেটকুলচাঁদ এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলআশ্রিত দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বাইকে ফেরার সময় পথ আটকে লাঠি এবং রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাদের।নানুরে খুন:বীরভূমের নানুরে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার বলি একজন। নানুরে এক তৃণমূলকর্মীকে কুপিয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে—নিহতের নাম আবির শেখ। তার পরিবারের অভিযোগ, আবিরকে রাস্তায় একা পেয়ে বিজেপি কর্মীরা ঘিরে ধরে তাকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছেন। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়।চম্পাহাটিতে পঞ্চায়েত অফিস বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগবারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত চম্পাহাটির পঞ্চায়েত অফিসে উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, গতকাল মঙ্গলবার সকালে বিজেপি কর্মীরা দলীয় পতাকা লাগিয়ে বাঁশ দিয়ে ঘিরে ওই অফিসের প্রবেশপথ বন্ধ করে দেন। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।বারুইপুরে উত্তেজনাবারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের ফুলতলা দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, সীতাকুণ্ড মোড়ে অবস্থিত ওই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে সেখানে বিজেপির দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেওয়া হয়।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT