
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা:খুলনায় দীর্ঘদিন ধরে মহানগর ও জেলা শাখার কমিটি না থাকায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কার্যত নেতৃত্বহীন অবস্থায় দিন পার করছে। শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে, দুর্বল হয়েছে মাঠপর্যায়ের সমন্বয়, আর তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে হতাশা ও অনিশ্চয়তা। তবে একইসঙ্গে নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সংগঠনের ভেতরে চলছে ব্যাপক তৎপরতা, লবিং এবং নেতৃত্বের দৌড়ঝাঁপ।দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৪ মার্চ ইশতিয়াক আহমেদ ইস্তিকে আহ্বায়ক এবং তাজিম বিশ্বাসকে সদস্য সচিব করে খুলনা মহানগর ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি গঠনের পর তারা মহানগরের ১৭টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ৫টি থানা এবং ৩১টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ১৫টিতে নতুন ইউনিট কমিটি গঠন করে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়। যদিও শুরুতে কিছুটা গতি থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রমে শ্লথতা দেখা দেয় এবং মেয়াদের তিন বছর পূর্তির আগেই ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের চিত্র আরও দীর্ঘ সময়ের। ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর মান্নান মিস্ত্রিকে সভাপতি ও গোলাম মোস্তফা তুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত জেলা কমিটি টানা আট বছর দায়িত্ব পালন করে। এই দীর্ঘ সময়ে তারা জেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ৯টি থানায় ইউনিট কমিটি গঠন করে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত করে। তবে দীর্ঘমেয়াদি এই কমিটিও অবশেষে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মহানগরের সঙ্গে একই দিনে বিলুপ্ত করা হয়।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নতুন করে সংগঠন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্ব আনার কথা জানানো হলেও জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কৌশলগত কারণে তা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে নতুন কমিটি ঘোষণা ঝুলে থাকায় খুলনায় ছাত্রদল কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে।বর্তমানে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন ইউনিট কমিটি আংশিক সক্রিয় থাকলেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও শীর্ষ নেতৃত্বের অভাবে কার্যক্রমে তেমন গতি নেই। অনেক ক্ষেত্রে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেখা দিচ্ছে সমন্বয়হীনতা। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব না থাকায় সংগঠনের স্বাভাবিক গতিধারা ব্যাহত হচ্ছে এবং নতুন কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ কমে যাচ্ছে।এদিকে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে শুরু হয়েছে ব্যাপক যাচাই-বাছাই ও তদন্ত কার্যক্রম। বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক, খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল পুরো প্রক্রিয়া তদারকি করছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার সুপারিশ ও মূল্যায়নের ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করছে নতুন কমিটির চূড়ান্ত রূপরেখা।মহানগর ছাত্রদলের শীর্ষ পদে আসার দৌড়ে রয়েছেন সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস, আরিফুল ইসলাম আরিফ, হেদায়েত উল্লাহ দিপু, মোঃ শাকিল আহমেদ, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আব্দুল হক শাহিন, হাসান ফকির, সৈয়দ ইমরান, নাজিম উদ্দিন ভূঁইয়া, রাজু আহমেদ, আব্দুস সালাম, রাশিউর রহমান রুবেল, রাজিবুল ইসলাম বাপ্পি, নাজমুল ইসলাম ও মুশফিকুর রহমান অভি প্রমুখ। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বে আলোচনায় রয়েছেন গাজী শহিদুল ইসলাম, মাসুম বিল্লাহ, মশিউর রহমান শফিক, ফিরোজ আহমেদ আদল, অনিক আহমেদ, ইয়ামিন ইসলাম, ইসমাইল হোসেন খান, আবু জাফর ও ইমতিয়াজ সুজন।জেলা ছাত্রদলের সাবেক নেতা অনিক আহমেদ বলেন, “মামলার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে কমিটি করলে প্রকৃত ত্যাগীরাই নেতৃত্বে আসবে।” মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব তাজিম বিশ্বাস জানান, “ছাত্রদল বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন হলেও এটি দলের একটি প্রাণ। ছাত্রদলের মাধ্যমে নতুন কর্মীরা দলে প্রবেশ করে। বর্তমান সংসদের অধিকাংশ মন্ত্রী-এমপিরাই সাবেক ছাত্রনেতা। দলকে আরও গতিশীল করতে খুব দ্রুতই কমিটি প্রয়োজন।”সবমিলিয়ে, নেতৃত্ব সংকট ও প্রত্যাশার মধ্যেই সময় পার করছে খুলনার ছাত্রদল। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কবে নাগাদ নতুন কমিটি ঘোষণা করে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় এবং সংগঠনকে আবারও সক্রিয় ধারায় ফিরিয়ে আনে।
