
ডেস্ক :
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলার জবাবে এবার ইসরায়েলে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি ইসরায়েলের এসব হামলা চালিয়ে যুদ্ধের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখছে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে। চলমান যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল ও লেবানন সীমান্তে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলমান রয়েছে।শুক্রবার হিজবুল্লাহ জানায়, তারা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে অন্তত ৯টি পৃথক অভিযান চালিয়েছে। এর মধ্যে কিছু হামলা লেবাননের ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর এবং কিছু হামলা ব্লু লাইন অতিক্রম করে উত্তর ইসরায়েলে পরিচালিত হয়।এসব হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ কারণেই তারা লেবাননে সামরিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ এবং দখলকৃত এলাকায় স্থাপনা ধ্বংসের মতো পদক্ষেপ।এদিকে, হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্র ও লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি শুক্রবার বৈরুতে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের এক বিবৃতির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ওই বিবৃতিতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর মধ্যে ওয়াশিংটনে বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।নাবিহ বেরি বলেন, লেবাননে হামলা চলমান থাকা অবস্থায় এ ধরনের আলোচনার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি বর্তমান যুদ্ধবিরতিকেও অপ্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, ইসরায়েল বরং লেবাননে হামলা বাড়িয়েছে।এদিকে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিহ ও সিডন এলাকায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।নাবাতিহ এলাকার হাবুশ শহরে চালানো ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে এক শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ হামলায় আরও ২১ জন আহত হয়েছেন।এছাড়া সিডনের জরাইরিয়াহ শহরে পৃথক ইসরায়েলি হামলায় আরও ৪ জন নিহত হয়েছেন। এনএনএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুই নারী রয়েছেন। সেখানে আহত হয়েছেন আরও ৪ জন।এই যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে কি না এবং সম্ভাব্য আলোচনাও ভেস্তে যেতে পারে কি না তা নিয়ে লেবাননের রাজনৈতিক মহল ও বিশ্লেষকদের মধ্যে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।সূত্র : আলজাজিরা
