
ডেক্স:
ইরান ইস্যুতে মার্কিন সামরিক অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় স্পেনকে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট (ন্যাটো) থেকে বহিষ্কার বা সদস্যপদ স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেইল বার্তার সূত্র ধরে রয়টার্স জানিয়েছে, স্পেনের মতো দেশগুলোকে শাস্তি দিতে এবং ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে তাদের সরিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব করেছে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরুর পর তেহরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। ট্রাম্পের মতে, ন্যাটো একটি ‘ওয়ান-ওয়ে স্ট্রিট’ বা একতরফা পথে পরিণত হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র সবাইকে সুরক্ষা দিলেও মিত্ররা বিনিময়ে কিছুই করছে না।পেন্টাগনের ইমেইলে উল্লেখ করা হয়েছে, ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর জন্য তাদের আকাশপথ ব্যবহার, সামরিক ঘাঁটি সুবিধা এবং ওভারফ্লাইট অধিকার নিশ্চিত করা ন্যূনতম দায়িত্ব। স্পেন তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ‘নেভাল স্টেশন রোটা’ ও ‘মোরন এয়ার বেস’ ব্যবহারের অনুমতি দিলেও ইরানের ওপর হামলার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেস্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, স্পেন আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ইমেইল নয় বরং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের ভিত্তিতেই স্পেন কাজ করবে।এদিকে, পেন্টাগনের এই প্রস্তাবের খবর জানাজানি হওয়ার পর ন্যাটো কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ন্যাটোর একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেছেন, ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে কোনো সদস্য দেশের সদস্যপদ স্থগিত বা কাউকে বহিষ্কার করার কোনো বিধান নেই। জার্মানি ও ইতালির পক্ষ থেকেও স্পেনের সদস্যপদের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। জার্মানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্পেনের সদস্যপদ নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতে পারে না। অন্যদিকে ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এই সংকটের মুখে ন্যাটো মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।পেন্টাগনের ইমেইলে শুধু স্পেনকে বহিষ্কারের বিষয়টিই নয়, বরং যুক্তরাজ্যের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য দক্ষিণ আটলান্টিকে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর ব্রিটিশ দাবির বিষয়েও মার্কিন অবস্থান পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব দাবি করে আসছে। পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন বলেছেন, মিত্ররা যাতে ন্যাটোর ভেতর ‘কাগুজে বাঘ’ হয়ে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামনে সব ধরনের বিশ্বাসযোগ্য বিকল্প তুলে ধরবে প্রতিরক্ষা বিভাগ। তবে রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো ছেড়ে দেওয়া বা ইউরোপের ঘাঁটিগুলো বন্ধ করার কোনো প্রস্তাব দেয়নি। মূলত ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন অবরোধ এবং যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মিত্রদের কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহযোগিতা আদায়ে এটি একটি জোরালো চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
