
নিজস্ব প্রতিনিধি:
যশোরে আসন্ন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে জেলায় ব্যাপক উন্নয়ন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। আগামী ২৭ এপ্রিল সম্ভাব্য সফরকে সামনে রেখে সড়ক সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধনমূলক কাজ দ্রুতগতিতে চলছে শহর ও আশপাশের এলাকায়। কয়েক দিনের ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কাজ শুরু হওয়ায় পুরো এলাকায় এক ধরনের ব্যস্ততা ও পরিবর্তনের চিত্র তৈরি হয়েছে।তবে এই দ্রুতগতির কাজ নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন। জেলার একাধিক সড়কে দেখা গেছে, পুরনো ইটের সলিংয়ের ওপর সরাসরি পিচ ঢেলে রাস্তা মেরামতের কাজ করা হচ্ছে। বাইরে থেকে রাস্তা নতুন ও ঝকঝকে দেখালেও স্থানীয়দের মতে, এর ভেতরের ভিত্তি দুর্বল রয়ে যাচ্ছে। ফলে সাময়িকভাবে সুন্দর দেখালেও দীর্ঘমেয়াদে এসব রাস্তার স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যে শেষ করার তাগিদে মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেকেই মনে করছেন, সফরকে ঘিরে কেবল দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখানোর জন্যই এই ধরনের সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। তাদের মতে, সঠিকভাবে ভিত্তি প্রস্তুত না করে কেবল উপরের স্তরে পিচ ঢাললে তা অল্প সময়ের মধ্যেই নষ্ট হয়ে যেতে পারে।একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বাইরে থেকে রাস্তা ভালো দেখালেও কয়েক দিনের ব্যবহারের মধ্যেই আসল অবস্থা বোঝা যাবে। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন যদি টেকসই না হয়, তাহলে বারবার একই কাজ করতে গিয়ে জনগণের ভোগান্তি আরও বাড়ে।অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, সময় স্বল্পতার কারণে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। সফরকে কেন্দ্র করে অন্তত সড়কগুলো যেন চলাচলের উপযোগী থাকে, সেটিই এখন মূল লক্ষ্য। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভবিষ্যতে আরও উন্নয়নমূলক কাজ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।তবে এই ব্যাখ্যায় পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, উন্নয়ন কেবল সাময়িক প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। না হলে অল্প সময়ের ব্যবধানে রাস্তা আবারও নষ্ট হয়ে যাবে এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে।সব মিলিয়ে যশোরের সড়ক সংস্কার কার্যক্রম একদিকে যেমন উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি কাজের মান ও স্থায়িত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে প্রশ্নও তৈরি করছে। ফলে এই সংস্কার কতটা টেকসই হবে, নাকি কেবল সাময়িক প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ থাকবে—এমন প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে স্থানীয়দের মাঝে।
