খুলনা, বাংলাদেশ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  তেরখাদার ৫নং ইউনিয়নে ৭ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে হাবিবুর রহমানের প্রার্থীতা ঘোষণা
  কেশবপুরে খাল থেকে অবৈধ পাটা উচ্ছেদ
  খুলনা সিটি ইউনিটের প্রশাসক মহোদয়কে সিনিয়র রেড ক্রিসেন্ট ইয়ুথ ফোরামের ফুলেল শুভেচ্ছা
  নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ
  সুন্দরবনে বাঘের তাড়া খেয়ে লোকালয়ে চিত্রল হরিণ, উদ্ধার করে সুন্দরবনে অবমুক্ত
  বটিয়াঘাটা প্রেসক্লাবে সভাপতি এ্যাড.সোহেল রানা মোল্লা,সমযোতায় সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন মুন্সী
  গিয়াস নগর বাজারকে আবার সচল করার অনুরোধ
  তেরখাদায় গাছ থেকে লাফ, নদীতে তলিয়ে যাওয়া—একদিন পর মিলল কিশোরের মরদেহ
  জাল সনদে ফুয়েল কার্ড নিতে এসে ধরা, দুই যুবককে জরিমানা
  হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু

নিয়োগের’ ২০ বছর পর প্রশিক্ষণে ১৮৪ এসআই

[ccfic]

ডেক্স

তাদের কারও বয়স ৪০ পার হয়েছে, কারও এর চেয়েও বেশি। তবে দীর্ঘ বছরের দাবি আর আইনি লড়াইয়ের পর এই বয়সেই তারা বসছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হওয়ার প্রশিক্ষণে। আগামী সোমবার থেকে রাজশাহীর সারদায় পুলিশ একাডেমিতে ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে ২০০৬ সালে এসআই পদে চূড়ান্ত নিয়োগ বাতিল হওয়া ১৮৪ জনের। তাদের মধ্যে ছয়জন নারী প্রশিক্ষণার্থী এসআই রয়েছেন।২০০৬ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন তৎকালীন জোট সরকারের আমলের শেষের দিকে ৫৩৬ জন ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই-নিরস্ত্র) ও ২২১ জন সার্জেন্ট নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। তবে তাদের প্রশিক্ষণ শুরুর আগেই সরকার পরিবর্তন হলে তাদের নিয়োগ কার্যক্রম থেমে যায়। ২০০৭ সালে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে ‘দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের’ অভিযোগ তুলে সেসব নিয়োগ বাতিল করে দেয়। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারও সেই নিয়োগ কার্যক্রম বাতিল রাখে। তবে বর্তমান সরকার গত মাসে বঞ্চিত এসব এসআই ও সার্জেন্টের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের মধ্য থেকে ১২৩ জন পুলিশ সার্জেন্ট ও ২০৭ জন এসআইকে শর্তসাপেক্ষে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়।গতকাল শনিবার কালবেলাকে বলেন, ২০০৬ সালে নিয়োগ রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে স্বাস্থ্য জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০ এপ্রিলপুলিশ সদর দপ্তরের রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-২ শাখার সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) আফরিদা রুবাই গতকাল শনিবার কালবেলাকে বলেন, ২০০৬ সালে নিয়োগ বঞ্চিত ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টরদের (নিরস্ত্র) রাজারবাগে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ছয় নারীসহ ১৮৪ জনকে ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০ এপ্রিল (সোমবার) থেকে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে।তিনি জানান, নিয়োগ বঞ্চিত সার্জেন্টদেরও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষ হয়েছে। উত্তীর্ণদের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আগামী ২৫ এপ্রিল থেকে তাদেরও ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হবে।জেলায় ১৩ জন, জামালপুরে চার ও ময়মনসিংহ জেলায় ১৬ জন রয়েছেন।চট্টগ্রাম রেঞ্জে সুপারিশপ্রাপ্ত ২৪ জনের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় আটজন, ফেনীতে তিন, কুমিল্লায় ছয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় দুই, নোয়াখালী থেকে দুই, চাঁদপুর থেকে দুই ও কক্সবাজার জেলার একজন রয়েছেন।রাজশাহী রেঞ্জে সুপারিশপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে সিরাজগঞ্জে চার, পাবনা জেলায় দুই, বগুড়ায় তিন, রাজশাহীতে দুই, নাটোরে তিন এবং জয়পুরহাটি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে একজন করে রয়েছেন।খুলনা রেঞ্জের সুপারিশপ্রাপ্ত ২৭ জনের মধ্যে সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও যশোর জেলার চারজন করে, খুলনায় আট, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরায় একজন করে এবং নড়াইল ও বাগেরহাটে দুজন করে রয়েছেন। বরিশাল রেঞ্জের সুপারিশ পাওয়া ২৩ জনের মধ্যে পটুয়াখালী জেলার ছয়জন, বরিশাল জেলার ছয়, ভোলা জেলার পাঁচ, বরগুনা জেলায় তিন, ঝালকাঠিতে দুই ও পিরোজপুরে একজন রয়েছেন। এ ছাড়া সিলেট রেঞ্জে হবিগঞ্জে একজন ও সুনামগঞ্জে দুজন রয়েছেন।এদিকে রংপুর রেঞ্জে মৌলিক প্রশিক্ষণের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলায় একজন করে, রংপুরে পাঁচ ও কুড়িগ্রাম জেলায় দুজন রয়েছেন।ওই সময়ে নিয়োগ বাতিল হওয়া এসআই-সার্জেন্টদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০০৭ সালে কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রজ্ঞাপন ছাড়া শুধু একটি সাদা কাগজে নোটের মাধ্যমে দলীয় ট্যাগে ঢালাওভাবে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধভাবে বাতিল ঘোষণা করে ফখরুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ বঞ্চিত করার পর তারা আদালতে যান এবং নানাভাবে নিয়োগের দাবি তুলতে থাকেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তারা বঞ্চিতই থাকেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তারা ফের নিয়োগের দাবি তোলেন।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিয়োগ বঞ্চিতরা তাদের নিয়োগ পুনর্বহালের জন্য ৩৩০ জনের একটি তালিকা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার দপ্তরে জমা দিয়ে আবেদন করেন। তাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সুপারিশও ছিল। পরে বিষয়টি দেখার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উচ্চপর্যায়ের ছয় সদস্যের কমিটি করে ফখরুদ্দীনের আমলে সাদা কাগজের বাতিল আদেশটি বাতিল করে ২০০৬ সালের নিয়োগ পুনর্বহালের সুপারিশ করে। গত বছর আইন মন্ত্রণালয় হয়ে সেই সুপারিশের সারসংক্ষেপ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাতে স্বাক্ষর করেননি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের নিয়োগের বিষয়টি সুরাহা করতে উদ্যোগী হয়।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT