
ডেস্ক রিপোর্ট: দ্বিতীয় দফা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সংলাপ শিগগিরই শুরু হবে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের বরাতে একটি বস্তিারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সামা টিভি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের দ্বিতীয় দফা আলোচনা কয়েক দিনের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। পাকিস্তানে প্রথম দফার আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়া ঠেকাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আবার আলোচনায় বসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। উভয় পক্ষের কঠোর অবস্থানের পরও কূটনীতির পথ এখনো খোলা রয়েছে।প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে পুনরায় আলোচনায় ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো সাম্প্রতিক সংঘাতের পর উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো।পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখতে তৎপর। পাকিস্তান, যারা ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন করেছিল, এখনও কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গভীরভাবে যুক্ত রয়েছে।কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করা যায়।একজন জ্যেষ্ঠ পাকিস্তানি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিলের সময়সীমার আগে বিষয়টি “সম্পন্ন করা”ই লক্ষ্য, যাতে পুনরায় সংঘাত শুরু না হয়।ইসলামাবাদের বৈঠকটি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি সংলাপ। কয়েক ঘণ্টাব্যাপী এ আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়নি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখনো সমাধান হয়নি, যেমন—কোনো ট্রানজিট ফি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ, প্রায় ২৭ বিলিয়ন ডলারের জব্দকৃত বৈদেশিক সম্পদ অবমুক্তির দাবি।প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা বা মজুত কমানোর মতো বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে। তবে উভয় পক্ষ গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি, ফলে আলোচনা স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তবুও কর্মকর্তারা মনে করছেন, আলোচনার গতি এখনো বজায় আছে।আরব নিউজ জানিয়েছে, কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আলোচনা আবার ইসলামাবাদে বা ইউরোপের অন্য কোনো স্থানে হতে পারে, যেখানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা চালিয়ে যাবে।আঞ্চলিক দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে, যাতে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায় এবং সংঘাতে ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।২২ এপ্রিলের সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় মধ্যস্থতাকারীরা দ্রুত অগ্রগতির চেষ্টা চালাচ্ছে। কর্মকর্তারা সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, অব্যাহত সংলাপ পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এবং একটি বৃহত্তর চুক্তির পথ তৈরি করতে পারে।
সূত্র: সামা টিভি
