
নিজেস্ব প্রতিনিধি সাদিয়া আক্তার:ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মাধবপুর গ্রামে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষে নিহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সীর লাশ নিয়ে শহরে মিছিল করেছে বিএনপি।শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে ঝিনাইদহ হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মাধবপুর গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে জামায়াতের নারী কর্মীরা মিটিং করে। মিটিং শেষে তাদের ওই বাড়িতে ইফতারের কথা ছিল। বেলা ১১টার দিকে জামায়াতের নারী কর্মীদের মিটিংয়ের খবর পেয়ে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মিটিং বন্ধ করতে বলেন।এ নিয়ে তাদের সঙ্গে জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষে কৃষক দল নেতা তরু মুন্সি, তার ছেলে শিপন মুন্সি, হোসেন আলী, শহিদুল ইসলাম, নায়েব আলী, আব্দুল খালেক ও আকবর আলীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত কৃষক দল নেতা তরু মুন্সিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার তার মৃত্যু হয়।শনিবার ময়নাতদন্তের পর হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে বিক্ষোভ করেন নেতাকর্মীরা। শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে হামদহ মোড়ে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়। সেখানে জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনাসহ দলের নেতাকর্মী ছাড়াও নিহতের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন।অন্যদিকে তরু মুন্সির মৃত্যু ষ্ট্রোকে হয়েছে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াতে ইসলামীর ঝিনাইদহ সদর শাখা।শনিবার দুপুরে জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সদর উপজেলা জামায়াতের থানা আমির ড. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাধবপুর গ্রামে মহিলা জামায়াতের ইফতার মাহফিল ঘিরে স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এতে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তরু মুন্সীর গায়ে কেউ আঘাত করেনি, তিনি হার্টের রুগী, তার মৃত্যু স্টোক জনিত কারণে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, তরু মুন্সী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মারামারির কারণে তিনি আতংকগ্রস্থ হয়ে স্টোক করেন। যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যু নিয়ে অপরাজনীতি করা হচ্ছে। জামায়াতের নেতাকর্মীদের উপর হামলা ও দোকানপাট ভাংচুর করা হচ্ছে।এদিকে এ ঘটনায় নিহতের পুত্র শিপন মিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. এম এ মজিদ বলেন, জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা কৃষকদল নেতা তরু মুন্সীকে মাথায় আঘাত করে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করেছে। সিটি স্ক্যানে তার মাথায় আঘাতের ক্ষত চিহ্ন রয়েছে, যে কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।তিনি আরও বলেন, তারা ইনসাফের লেবাস পড়ে করে বে-ইনসাফের কাজ করছে। আমরা ন্যক্কারজনক এ হত্যার বিচার চাই
