খুলনা, বাংলাদেশ | ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  হাসনাত আবদুল্লাহর পর এবার খেজুরের হিসাব দিলেন এমপি আখতার
  টেকসই বেড়িবাঁধ, আইনশৃঙ্খলা উন্নতি, কলকারখানা চালুসহ একগুচ্ছ দাবি উপস্থাপনের পরিকল্পনা খুলনার ৬ এমপি’র
  ঈদ ফিরতি ট্রেনযাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু কাল
  গোয়াড়ায় কবিগানে এমপির আর্থিক সহযোগিতা.
  স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি
  সংসদ অধিবেশনে অংশ নিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস
  বটিয়াঘাটার গঙ্গারামপুর ও সুরখালী ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি স্থগিত
  ইরানে স্কুলে হামলার জন্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র দায়ী: সিআইয়ের সাবেক পরিচালক
  সুন্দরবনে পারশে পোনা নিধন অব্যাহত, হুমকিতে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য
  হাসপাতালে ভর্তি মির্জা আব্বাস

সুন্দরবনে পারশে পোনা নিধন অব্যাহত, হুমকিতে জলজ প্রাণবৈচিত্র্য

[ccfic]

তারিক লিটু, কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি:বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে নিষিদ্ধ ঘন মশারি জাল ব্যবহার করে পারশে মাছের পোনা আহরণ অব্যাহত রয়েছে। এতে একদিকে মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণীর লার্ভাসহ অসংখ্য জলজ জীব। ফলে সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।সুন্দরবনের মোট ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা বাংলাদেশের অংশে পড়েছে। এর মধ্যে জলভাগের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো বনের প্রায় ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এখানে ১৩টি বড় নদীসহ প্রায় ৪৫০টি খাল রয়েছে। বনের অর্ধেকের বেশি এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে বন বিভাগ, যেখানে জেলেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ। তবে বনসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর, নদী ও খালে অবাধে চলছে মাছের পোনা নিধন।বিশেষ করে পারশে মাছের পোনা আহরণে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘন মশারি জাল। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের খুলনার পাইকগাছা নোনা পানি গবেষণা কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, একটি পারশে পোনা আহরণের বিপরীতে কমপক্ষে ১১৯টি চিংড়ি, ৩১২টি প্রাণিকণা এবং ৩১টি অন্যান্য প্রজাতির মাছের পোনা ধ্বংস হয়। অথচ মৎস্য আইনে সোয়া চার ইঞ্চির কম ফাঁসের জাল ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ।সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক বলেন, উপকূলের প্রান্তিক মানুষের জীবিকার অন্যতম উৎস সুন্দরবন। এ বনকে ঘিরে প্রায় দেড় লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু নিয়ম মেনে সম্পদ আহরণ না করলে উপকূলীয় লোনা পরিবেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যানগ্রোভ বন সংকটে পড়বে।স্থানীয় জেলেরা জানান, পারশে মূলত লোনা পানির মাছ। এটি সুন্দরবনের মতো ম্যানগ্রোভ এলাকায় বেশি পাওয়া যায় এবং উপকূলীয় অঞ্চলের চিংড়ি ঘেরে চাষের জন্য এর পোনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের ঘেরগুলোতে প্রাকৃতিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা পারশে পোনা সরবরাহ করা হয়। এ কারণে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি জেলে দল নিয়মিত সুন্দরবনে পোনা শিকার করছে।বনজীবীদের দাবি, মূলত ডিসেম্বর থেকে মার্চ—এই তিন মাস পারশে পোনা আহরণ বেশি হয়। কয়রা অঞ্চলের একটি চক্রের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম চলছে। সুন্দরবনে ট্রলার চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও সাদা মাছ পরিবহনের অনুমতি নিয়ে কিছু মহাজন ট্রলার নিয়ে বনে প্রবেশ করে। পরে নদী ও খালে পারশে পোনা ধরার কাজে তা ব্যবহার করা হয়।বনজীবীরা আরও জানান, প্রতিটি দ্রুতগামী ট্রলারে আট থেকে ১০ জন জেলে থাকে এবং ঘন মশারি জাল ব্যবহার করা হয়। কোনো অভিযান পরিচালনার আগেই দালালদের মাধ্যমে জেলেরা খবর পেয়ে যায়। তখন তারা বনের গভীরে আশ্রয় নেয় এবং অভিযান শেষ হলে আবার পোনা ধরতে শুরু করে।তাদের দাবি, একবার জাল টানলে দুই থেকে তিন মণ পারশে পোনা পাওয়া যায়। দুদিন পরপর এসব ট্রলার সাত থেকে আট মণ পোনা নিয়ে শিবসা নদীতে আসে। সেখান থেকে পাইকগাছা, দাকোপ ও মোংলার বিভিন্ন মোকামে সরবরাহ করা হয়। পাইকগাছা সেতুর নিচে প্রকাশ্যেই এসব পোনা বেচাকেনা হয়। আকারভেদে প্রতি কেজি পোনা ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুন্দরবনকেন্দ্রিক সব ধরনের অপরাধ দমনে বন কর্মকর্তা ও প্রহরীরা কাজ করছেন। নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ জাল, কীটনাশকসহ অবৈধভাবে প্রবেশ করা জেলেদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।অন্যদিকে বন বিভাগের সঙ্গে কিছু চক্রের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান। তিনি বলেন, বন কর্মকর্তা বা প্রহরীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ভিত্তিহীন। সুন্দরবনের ভেতরে পারশে পোনা ধরার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।তবে স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে কাজ করা কয়রা সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি তারিক লিটু বলেন, কিছু প্রভাবশালী মহাজন বন বিভাগকে ম্যানেজ করে পারশে পোনা নিধন করছে। পাশাপাশি অভয়ারণ্য এলাকায় বিষ প্রয়োগে মাছ শিকার ও বন্যপ্রাণী নিধনের ঘটনাও বন্ধ হয়নি।বাংলাদেশ সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের মিডিয়া সমন্বয়ক ওবায়দুল কবির সম্রাট বলেন, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রহরীর যোগসাজশে কয়রা, দাকোপ ও সাতক্ষীরার শ্যামনগরকেন্দ্রিক কয়েকটি চক্র সক্রিয় রয়েছে।এ বিষয়ে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, সুন্দরবন সুরক্ষায় বন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কমিউনিটি ভিত্তিক সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে এবং কোনো কর্মকর্তা অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ফোনঃ 01767801901

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT