খুলনা, বাংলাদেশ | ২৭শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ভোটের দিন যেসব প্রতিষ্ঠান খোলা, যেগুলো বন্ধ
  যেসব কারণে বাতিল হতে পারে ভোট
  ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে হাসনাতের প্রতিক্রিয়া
  ১০ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটির বিষয়ে সরকারের নতুন নির্দেশনা
  প্রচার-প্রচারণার শেষ সময় জানালো নির্বাচন কমিশন!
  প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানকে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে দেখা হচ্ছে: রয়টার্স
  জামায়াত নেতার গর্ভবতী স্ত্রীর পেটে লাথি সভ্যতার জঘন্যতম কলঙ্ক
  কার ইশারায় ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হলো, প্রশ্ন ডাকসু ভিপির
  দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে ফজলুর রহমান বিষপান করবে, এটা প্রমাণে ভোট দেয়া দরকার’
  প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়ি নয়, নির্বাচিত হতে পারলে বাস্তবিক ভাবে আপনাদের খেদমতে নিজেকে উৎসর্গ করতে চাই -রূপসায় মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন

যেসব কারণে বাতিল হতে পারে ভোট

[ccfic]

নিজস্ব প্রতিনিধি সাদিয়া আক্তার :নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, নানা অনিয়ম, সহিংসতা কিংবা ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। জাতীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচন—যেকোনো কেন্দ্রের ভোট বাতিল হওয়া মানেই পুরো নির্বাচনপ্রক্রিয়ার ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া।ভোটারদের নিরাপত্তা, প্রার্থীদের অভিযোগ ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে তখন নির্বাচন কমিশনকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। প্রয়োজনে পুরো আসনের ভোটও স্থগিত বা বাতিল করা হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে কোনো কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বাতিল ঘোষণা করার ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের।নির্বাচন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, ‘ভোটের স্বচ্ছতা নষ্ট হলে বা ফলাফল প্রভাবিত হওয়ার মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে, ভোট বাতিল ছাড়া বিকল্প থাকেসংশ্লিষ্টরা জানান, ভোটকেন্দ্র দখল, মারামারি, ককটেল বা বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ, ব্যালট ছিনতাই কিংবা ভাঙচুরের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটলে ভোটগ্রহণ অব্যাহত রাখা সম্ভব হয় না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রিসাইডিং অফিসার তাৎক্ষণিকভাবে ভোট স্থগিত করতে পারেন। পরে তদন্ত শেষে অনেক ক্ষেত্রে কমিশন পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত দেয়।ব্যালট পেপার নষ্ট বা হারিয়ে গেলে ভোটের সঠিকতা নিশ্চিত করা যায় না। আইন অনুযায়ী, এমন অবস্থায় ওই কেন্দ্রের ফলাফল গ্রহণযোগ্য থাকে না। এ ছাড়া বুথ দখল করে একযোগে জালভোট প্রদান, একজনের একাধিকবার ভোট দেওয়া কিংবা সংঘবদ্ধ কারচুপি ‘ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার’ নির্বাচনের পরিপন্থি। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফলাফল বাতিল করা হয়।ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো, কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দেওয়া, হুমকি বা জোরপূর্বক ভোটদানে প্রভাব বিস্তার করাও ভোট বাতিলের কারণ হতে পারে। এসব পরিস্থিতি ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নষ্ট করে।আবার কখনো কখনো প্রিসাইডিং অফিসার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, ইচ্ছাকৃত ত্রুটি, ফলাফল পরিবর্তন বা নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনাও সামনে আসে। কর্মকর্তার কারচুপি প্রমাণিত হলে সেই কেন্দ্রের ভোট বাতিল হতে পারে।প্রযুক্তিগত ত্রুটিও একটি বড় কারণ। ব্যালট পেপার ভুল ছাপা, সিল বা সরঞ্জামের সমস্যা, ইভিএম বিকল হওয়া কিংবা ডেটা গরমিলের মতো ঘটনায় ভোট স্থগিত বা বাতিলের নজির রয়েছে।কোনো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোটার ও কর্মকর্তাদের জীবন-ঝুঁকি তৈরি হয়। এমন অবস্থায় নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটগ্রহণ বন্ধ করার ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কর্মকর্তাদের। এ ছাড়া কোনো প্রার্থীর অভিযোগ বা রিটের ভিত্তিতে আদালত ভোট বা ফলাফল স্থগিতের নির্দেশ দিলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র বা আসনের ভোটও বাতিল বা স্থগিত করা হয়।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাড়তি নিরাপত্তা, সিসিটিভি নজরদারি, পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় জোরদারের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ভোটকেন্দ্র যেন বাতিলের বদলে স্বচ্ছ, নিরবচ্ছিন্ন ও বিশ্বাসযোগ্য থাকে—সে লক্ষ্যেই সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার ৮ লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।এ বিষয়ে ইসি কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বা সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, প্রযুক্তিগত ত্রুটি, কিংবা এমন কোনও অস্বাভাবিক অবস্থা, যেখানে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এসব ক্ষেত্রে ভোটের পবিত্রতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হলে সেটিকে ‘এক্সট্রা অর্ডিনারি সিচুয়েশন’ হিসেবে বিবেচনা করে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT