খুলনা, বাংলাদেশ | ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  পহেলা বৈশাখে শুভেচ্ছা জানিয়ে জনসমর্থন চাইলেন হুমায়ুন কবির
  সংসদ থেকে বিরোধীদলের ওয়াকআউট যথাযথ ছিল না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশুর মৃত্যু
  মণিরামপুরের মনোহরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ: নিয়োগ জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন
  ডুমুরিয়ায় বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষক ইমন খান
  কয়রা-পাইকগাছায় আইসিডি’র ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা পেলেন ৪ হাজার মানুষ
  মনোনয়ন জমায় শক্ত বার্তা, বাগেরহাটের উন্নয়নে প্রত্যয়ে পাইলট রেনজিনা আহমেদ প্রিয়াংকা
  জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সাথে ১১ দলীয় ঐক্যের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  কৃষক কার্ডে থাকবে নগদ টাকা, সঙ্গে ১০ সেবা
  যশোরের বিদ্রোহী সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান

গোদাগাড়ীতে সরিষা ফুলে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌ চাষীরা

[ccfic]

সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার,রাজশাহী :

নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্যরে কবিতা ‘মৌমাছি মৌমাছি কোথাও যাও নাচি নাচি দাড়াও না একবার ভাই, ওই ফুল ফোঁটে বনে যাই মধু আহরণে দাঁড়া বার সময় তো নাই’।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর, কমলাপুর, চর আষাড়িয়াদহ চর অঞ্চল ও খাল বিলে হলুদ ফুলে ফুলে ভরে গেছে মাঠ। বিস্তর্ণ মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে হলুদের সমারোহ। বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটিতে দিগন্ত জুড়ে সরিষার আবাদে সরিষার ফুলে ফুলে মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠেছে উপজেলার বিভিন্ন্ বিল চড়ায় গুলো। এ সব মাঠে এসে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি দেখে ছোটবেলার ছড়াটির কথা মনে পড়ে যায়।

তাই মৌমাছিদের যেন কোন ফুরসত নেই মহাব্যস্ত এখন তারা মধু অহরণে ভৌ ভৌ শব্দে দলে দলে তারা ছুটে যাচ্ছে বহুদুরে। উড়ে উড়ে ফুল থেকে মধু চুষে নিয়ে আবার ফিরে। সংগৃহীত ওই মধু তারা সঞ্চয় করেছে মৌচাকে। তবে এটা কোন প্রাকৃতিক মৌচাক নয়। তারা মধু ঢালছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বাক্সবন্দী মৌচাকে। সেখান থেকে আহরণ করা হচ্ছে মানসম্মত মধু। কৃষি অধিদফতর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরিষা ক্ষেতে মৌমাছি থাকলে স¦াভাবিকের চেয়ে ফুলে ফুলে মৌমাছি বিচরণের মধ্য দিয়ে পরাগায়ন হয়ে ২০-৩০ ভাগ বেশি পাচ্ছে সরিষার ফলন। কর্মকর্তা আরও জানান, সরিষা ক্ষেতে মধুর খামার গড়ে তোলার জন্য খামারিদের উৎসাহিত করা হয় অপরদিকে এ দৃশ্য স্থানীয় চাষীদের মৌ চাষের প্রতি উদ্বুদ্ব করে তোলা। রাজশাহী-চাঁপাই মহাসড়কের পাশে বাসুদেবপুর বিল চড়াইে সরিষার ক্ষেতে মধু সংগ্রহ করার জন্য বসেছে।

গোদাগাড়ী উপজেলার বাসুদেবপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর নামাজ গ্রামের আতাউর রহমান ২০০০ সাল থেকে সরিষার ক্ষেতে মধু চাষ করে আসছে। শুরুর দিকে ১০টি মৌ বাক্সের মাধ্যমে মধু সংগ্রহ করে লাভবান হয়। এরপরের বছর থেকে মৌ বাক্সের সংখ্যা বাড়তে থাকে। তিনি জানান, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রতিটি বাক্সের ভেতরে প্রায় ৫০-৬০ হাজার মৌমাছি থাকে আর বাক্সের ভিতরে একটি মাত্র রাণী মৌমাছি থাকে। রানী মৌমাছি ডিম দেয়। বাক্সে থাকে ৫ থেকে ১০ টি মোমের ফ্রেম। এই ফ্রেমগুলো হচ্ছে মৌচাক। বাক্সে বসে থাকে রানী মৌমাছি। দিনে ৬ বার মধু যোগাতে ঝাঁকে ঝাঁকে কর্মী মৌমাছি ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে এনে জমা করে ওই মৌচাকে। তিনি জানান, এখানে ’এফিসস মিলেরা ’ জাতের মৌমাছি চাষ করা হচ্ছে। সারাদিন মৌমাছি গুলো সরিষার ফুলে পরাগায়ণ ঘটায় এবং মধৃু সংগ্রহ করে। এরা সাধারণত ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূর থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারে। ৮-১০ দিন পর পর প্রতিটি বাক্সে এসব চাক থেকে বিশেষ পদ্ধতিতে বের করা হচ্ছে দেড় কেজি পর্যন্ত সুস্বাদু মধু। মাঠে বসেই এ মধু বিক্রি হচ্ছে ৪শ’ টাকা কেজি দরে।

সরিষার ফুল শেষ হওয়ার পর মার্চ মাসে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য নাটোর, ঠাঁকুরগাও, দিনাজপুর অথবা ঈশ্বরদীর কোন স্থানে বাক্সগুলো পাঠাবে। তারা আরও জানান, সরকারের ভাল উদ্যোগ নেয় ও গঠনমূলক কোন নজরদারি নেই, সরকারী ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মধু সংগ্রহের কাজ ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানী করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে জানায় মৌ চাষীরা। বালিয়াঘাটা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, মৌ চাষের এ দৃশ্য আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। আগামীতে এ পদ্ধতিতে মধু আহরণের উদ্দ্যেগ নিবেন বলেও জানান তিনি।

সরিষার ফুল শেষ হওয়ার পর মার্চ মাসে লিচুর মুকুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য নাটোর, ঠাঁকুরগাও, দিনাজপুর অথবা ঈশ্বরদীর কোন স্থানে বাক্সগুলো পাঠাবে। তারা আরও জানান, সরকারের ভাল উদ্যোগ নেয় ও গঠনমূলক কোন নজরদারি নেই, সরকারী ভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে মধু সংগ্রহের কাজ ব্যাপক উন্নয়ন করা সম্ভব। দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রফতানী করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে জানায় মৌ চাষীরা। বালিয়াঘাটা গ্রামের কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, মৌ চাষের এ দৃশ্য আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে। আগামীতে এ পদ্ধতিতে মধু আহরণের উদ্দ্যেগ নিবেন বলেও জানান তিনি।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন,তিনটি উদ্দেশ্য নিয়ে আমরা সরিষার মৌমাছি পালন করছি। এখানে মৌ খামারিদের উদ্দেশ্য মধু সংগ্রহ করা। আর কৃষি বিভাগের মাধ্যমে সরিষার ফলন বৃদ্ধি করা। পাশাপাশি মৌমাছি চাষে স্থানীয় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে তোলা।

উপজেলায় বিভিন্ন মাঠে মধু চাষীরা ১ হাজার টি বাক্সে মধু সংগ্রহ করছে। মধু সংগ্রহের পরিমান প্রায় ৯ হাজার কেজি হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মৌ চাষীরা আসায় ওই সব এলাকায় সরিষার ফলন প্রায় ২০-৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। মৌমাছি শুধু মধু সংগ্রহ করে না ফসলের জন্য ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ মেরে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের সহায়তা করে থাকে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT