খুলনা, বাংলাদেশ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  দিনাজপুর বীরগঞ্জের কাজল গ্রামে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে আদিবাসী মহিলার মৃত্যু 
  খুলনায় গ্রেনেড বাবুর বাড়িতে অভিযান, ভাই জনি আটক
  ফেসবুক-মেসেঞ্জার সার্ভার ডাউন
  খুলনা সিটি হাসপাতালে আগুন, উঠে এলো মানবিকতার গল্প
  থানা পর্যায়ে “Startup, Science Project and Innovation Idea Showcasing Program” এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
  ডুমুরিয়ায় আট বছরেও শেষ হয়নি ৬০ মিটার সেতুর কাজ চরম দুর্ভোগে মানুষ
  বিশ্বকাপ ফুটবলের উম্মাদনায় মুখরিত কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ের পাড়া মহল্লা
  কেশবপুরে মাছের ঘের করতে সরকারি  রাস্তার ব্যবহার, হুমকির মুখে গ্রামীণ সড়ক
  সুনামগঞ্জের হরিনগরে বাড়ির ছাঁদ থেকে গাঁজার গাছসহ ১ জন আটক
  ধামইরহাটে ১০ টি মামলার ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামি গ্রেফতার

মোল্লাহাটে পানের চাষে সমৃদ্ধি, কৃষকের ভাগ্য বদল

[ccfic]

রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:

পান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সালিশ-বিচারে পান-সুপারীর ব্যবহার গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী পান উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা। এর অন্যতম কেন্দ্র বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা।
দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টি পান সারা দেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত। মোল্লাহাট উপজেলায় প্রাচীনকাল থেকেই পান চাষ হয়ে আসছে। ফলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। প্রতি বছর নতুন নতুন জমিতে পান চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নে ব্যাপক আকারে পান চাষ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও উদয়পুর ও চুনখোলা ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পান উৎপাদন হচ্ছে। গাংনী, কুলিয়ারচর, কোদালিয়া ও গাওলা ইউনিয়নেও পান চাষ দিন দিন বাড়ছে।
মোল্লাহাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চিতলমারী, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, কালিয়া, তেরখাদা, ফকিরহাট ও নড়াগাতীসহ বিভিন্ন উপজেলায় পান চাষ বিস্তার লাভ করেছে।
মোল্লাহাট উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী গাঁড়ফা বাজার এ অঞ্চলের পানের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। সপ্তাহে পাঁচ দিন এ বাজারে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা পান নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরাও এখানে পান কিনতে আসেন। বাজারের কয়েকজন আড়ৎদার জানান, এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয়ে থাকে।
পাটগাতী ইউনিয়নের তেরখাদা উপজেলার পান ব্যবসায়ী মোঃ আফজান মোল্লা জানান, বর্তমানে এক কুড়ি পানে ৫২২৮ পিচ গণনা করা হচ্ছে এবং প্রতি পিচ পান ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এই দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েকজন পান চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানের বর্তমান বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। তবে সার, বাঁশ, শ্রম ও পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ কিছুটা কমে যাচ্ছে বলে তারা জানান।
কৃষকদের দাবি, আধুনিক চাষপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে পান চাষ আরও লাভজনক হবে এবং এই ঐতিহ্যবাহী ফসল দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT