রায়হান শেখ, মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি:
পান বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। অতিথি আপ্যায়ন, সামাজিক অনুষ্ঠান ও সালিশ-বিচারে পান-সুপারীর ব্যবহার গ্রামীণ সমাজের ঐতিহ্যের অংশ। সেই ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী পান উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থা। এর অন্যতম কেন্দ্র বাগেরহাট জেলার মোল্লাহাট উপজেলা।
দক্ষিণাঞ্চলের উৎপাদিত মিষ্টি পান সারা দেশে ব্যাপকভাবে পরিচিত। মোল্লাহাট উপজেলায় প্রাচীনকাল থেকেই পান চাষ হয়ে আসছে। ফলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি কৃষকদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেছে। প্রতি বছর নতুন নতুন জমিতে পান চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উপজেলার আটজুড়ী ইউনিয়নে ব্যাপক আকারে পান চাষ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও উদয়পুর ও চুনখোলা ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পান উৎপাদন হচ্ছে। গাংনী, কুলিয়ারচর, কোদালিয়া ও গাওলা ইউনিয়নেও পান চাষ দিন দিন বাড়ছে।
মোল্লাহাট ছাড়াও পার্শ্ববর্তী চিতলমারী, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জ সদর, কালিয়া, তেরখাদা, ফকিরহাট ও নড়াগাতীসহ বিভিন্ন উপজেলায় পান চাষ বিস্তার লাভ করেছে।
মোল্লাহাট উপজেলা সদরের ঐতিহ্যবাহী গাঁড়ফা বাজার এ অঞ্চলের পানের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র। সপ্তাহে পাঁচ দিন এ বাজারে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাষিরা পান নিয়ে আসেন। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারীরাও এখানে পান কিনতে আসেন। বাজারের কয়েকজন আড়ৎদার জানান, এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি টাকার পান কেনাবেচা হয়ে থাকে।
পাটগাতী ইউনিয়নের তেরখাদা উপজেলার পান ব্যবসায়ী মোঃ আফজান মোল্লা জানান, বর্তমানে এক কুড়ি পানে ৫২২৮ পিচ গণনা করা হচ্ছে এবং প্রতি পিচ পান ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত এই দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কয়েকজন পান চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পানের বর্তমান বাজারদর সন্তোষজনক হওয়ায় কৃষকেরা খুশি। তবে সার, বাঁশ, শ্রম ও পরিচর্যা খরচ বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ কিছুটা কমে যাচ্ছে বলে তারা জানান।
কৃষকদের দাবি, আধুনিক চাষপদ্ধতি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে পান চাষ আরও লাভজনক হবে এবং এই ঐতিহ্যবাহী ফসল দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।