খুলনা, বাংলাদেশ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  রূপসায় চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ আব্দুর রশিদের গণসংযোগ.
  নরসিংদীর শিবপুরে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ।
  কেশবপুরে ৩দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি প্রদর্শন মেলা সমাপ্ত
  খুলনায় গণশুনানিতে ডিসির মানবিক উদ্যোগ, হৃদরোগীর পাশে দাঁড়ালেন নবাগত জেলা প্রশাসক
  বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ১৩ ডিআইজি
  তেরখাদায় পল্লী বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
  ডুমুরিয়ায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ক্রীড়া পরিদপ্তরের আওতায় নতুন কুঁড়ি স্পের্টস কর্মসূচি বাস্তবায়ন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা
  ঐকমত্যে পৌঁছালো রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া
  ইসলামাবাদে বসার শর্ত দিলেন ইরানের রাষ্ট্রদূত
  দিঘলিয়ায় মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন

মাতৃমৃত্যু কমার শ্লথগতি, এসডিজি অর্জনে বড় শঙ্কা

[ccfic]

খুলনার সময়ের খবর ডেস্ক:বাংলাদেশে গত এক দশকে মাতৃমৃত্যুর হার কমলেও অগ্রগতি আশানুরূপ নয়– এমন উদ্বেগ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৯৯০ সালে প্রতি লাখে ৫৭৪ জন মা মারা গেলেও তিন দশকে ধাপে ধাপে কমে বর্তমানে এ হার ১৩৬। কিন্তু টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ৭০-এ নামিয়ে আনতে হলে বর্তমান অগ্রগতি যথেষ্ট নয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এই তথ্য তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম। উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ফারহানা দেওয়ান, সভাপতি অধ্যাপক ফিরোজা বেগম ও বিএইচআরএফ সভাপতি রাশেদ রাব্বী। প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর বড় পাঁচ কারণ হলো– প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণ, গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বাধাগ্রস্ত প্রসব, সংক্রমণ এবং বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগ (রক্তস্বল্পতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড রোগ ইত্যাদি)। মৃত্যুহার কমার গতি মন্থর হওয়ার কারণ হঠাৎ স্তিমিত হয়ে আসা মাতৃমৃত্যুর হার নিয়ে চারটি বড় কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা– প্রজনন হার বেড়ে যাওয়া, বাড়িতে প্রসবের প্রবণতা, প্রসব-পূর্ব সেবায় (এএনসি) প্রয়োজনীয় চারবার বা তার বেশি সেবা না নেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণে দেরিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং শহর-গ্রামের বৈষম্য।২০১৯ সালে শহর এলাকায় মাতৃমৃত্যু হার ছিল প্রতি লাখে ১২৩, যা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৬-এ। বিপরীতে গ্রামে এই হার ১৯১ থেকে কমে হয়েছে ১৫৭, যা এখনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।মাতৃমৃত্যুর ৫৪ শতাংশই ঘটছে বাড়িতে এবং এর বেশির ভাগই প্রসব-পরবর্তী প্রথম ২৪ ঘণ্টার ভেতরে। এ ছাড়া ৫৯ শতাংশ মা অন্তত চারবার প্রসব-পূর্ব সেবা নেন না। অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম বলেন, মায়েরা মূলত প্রসব-পরবর্তী রক্তক্ষরণে মারা যান। বর্তমান গতিতে চললে এসডিজির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, অন্তত আটবার প্রসব-পূর্ব সেবা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে এই হার খুব কম। মাতৃমৃত্যু কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনের কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ফেরদৌসী বেগম। স্বচ্ছ বা স্বল্পস্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে তৈরি ত্রিকোণ দাগাঙ্কিত থলি প্রসবের সময় ব্যবহার করে রক্তক্ষরণ মাপা যায়, যা দ্রুত চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করে। নার্স ও মিডওয়াইফরা এই থলি বানাতে পারেন মাত্র পাঁচ টাকা খরচে। প্রকল্প পর্যায়ে এটি সফলভাবে প্রয়োগও হয়েছে। চলমান প্রকল্পের ফলাফল ডিজিএইচএস, ডিজিএফপি, আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিগো এবং ওজিএসবি মিলে ফরিদপুরের চারটি সরকারি হাসপাতাল ও ঢাকার দুটি অলাভজনক হাসপাতালে ২০২৩-২০২৫ মেয়াদে একটি প্রকল্প পরিচালনা করছে। সভায় এই প্রকল্পের অগ্রগতি ও প্রাথমিক ফল তুলে ধরা হয়। অধ্যাপক ফারহানা দেওয়ান বলেন, মাতৃমৃত্যুর ৫৫ শতাংশ ঘটে প্রসবের পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায়। কিন্তু সন্তান জন্মের পরও প্রয়োজনীয় সময় হাসপাতালে থাকতে নারীরা অনীহা দেখান। অনেক মা আট ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি চলে যেতে চান, যা ঝুঁকি বাড়ায়। অনুষ্ঠানে বক্তারা মাতৃমৃত্যু কমাতে এখনই শহর-গ্রামের ব্যবধান কমানো, প্রসব-পূর্ব সেবা নিশ্চিত করা এবং বাড়িতে প্রসব কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তা না হলে এসডিজির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে উঠবে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT