
সোহেল রানা,স্টাফ রিপোর্টার :
অভয়নগরের বিভিন্ন খাল ও বিলে একদল পাখি শিকারী রাতের আধারে মিউজিক বাজিয়ে অতিথি পাখি শিকার করছে। চলিশীয়া, বাগদাহ, কোটা, সুন্দলীসহ এলাকার খাল-বিলে এ ধরনের অভিযান চলছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। শিকারকৃত পাখি সকালে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে অতিথি পাখি শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী অতিথি পাখি শিকার, ধরা, হত্যা, ক্রয়-বিক্রয় বা ভক্ষণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রথমবার অপরাধ হলে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আর পুনরাবৃত্তিতে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। এছাড়াও, পাখির দেহ বা মাংস দখল বা বিক্রির জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড বা ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অতিথি পাখি শিকার শুধু প্রজাতির সংখ্যা কমাচ্ছে না, এটি জলাশয়ের ইকোসিস্টেমকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাখি কমে গেলে পোকামাকড়ের বিস্তার ঘটে, যা পরিবেশের ভারসাম্যকে বিপন্ন করছে।
স্থানীয়রা অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন, যাতে অবিলম্বে আইন প্রয়োগ ও শিকার প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাখি রক্ষা না করলে শুধু প্রজাতি নয়, এলাকার পরিবেশও বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
