খুলনা, বাংলাদেশ | ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খুলনায় নতুন এসপি, আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ
  চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কেশবপুরের মানবিক ডাক্তার কামরুজ্জামান
  বদলীজনিত বিদায় সংবর্ধনা : কেএমপি
  কেএমপি খুলনার সোনাডাঙ্গা মডেল থানা পুলিশ কর্তৃক ০৩(তিন) টি সিআর-সাজা পরোয়ানাভূক্ত ০১(এক) জন আসামী গ্রেফতার
  মৌলভীবাজারে বিদ্যুৎ সংকটে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম, সমাধানে এমপি ও মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
  খুলনায় গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের দেয়াললিখন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে হামলার প্রতিবাদ
  বগুড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে যুবককে কুপিয়ে হত্যা
  যা শুরু করেছেন, আপনাদের কারণেই আওয়ামী লীগ ফিরবে’
  ইরান যুদ্ধবিরতি বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত জানাল ব্রিটেন
  দুই কোটি টাকার স্বর্ণসহ ভারতীয় নাগরিক আটক

যুদ্ধবিরতির পরও গাজায় ভয়াবহ ক্ষুধা সংকট চলছে: ডব্লিউএইচও

[ccfic]

নিজেস্ব প্রতিনিধি সাদিয়া আক্তর:গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দুই সপ্তাহ পার হলেও সেখানে ক্ষুধা ও অপুষ্টির পরিস্থিতি এখনো “বিপর্যয়কর” বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।সংস্থাটি জানায়, ইসরায়েল মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বলে খাদ্যসহ জরুরি ত্রাণসামগ্রী মানুষের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলোর দাবি, গাজায় যে পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী ঢুকছে, তা জনগণের পুষ্টির চাহিদা পূরণে একেবারেই অপ্রতুল। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, তাদের প্রতিদিন দুই হাজার টন ত্রাণ সরবরাহের লক্ষ্য থাকলেও এখনো সেই পরিমাণে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। কারণ, বর্তমানে ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ডে যাওয়ার জন্য মাত্র দুটি প্রবেশপথ খোলা রয়েছে।ডব্লিউএইচও মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস বলেন, “পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ। যা ঢুকছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। যথেষ্ট খাদ্য না থাকায় ক্ষুধার পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।”জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার অন্তত এক-চতুর্থাংশ জনগণ অনাহারে ভুগছেন, যার মধ্যে রয়েছেন ১১ হাজার ৫০০ গর্ভবতী নারী। সংস্থাটির সতর্কবার্তা—এই ক্ষুধা সংকট “পুরো এক প্রজন্মের ওপর” দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে।ইউএনএফপিএর উপ–নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু স্যাবারটন বলেন, বর্তমানে গাজায় জন্ম নেওয়া ৭০ শতাংশ শিশুই সময়ের আগেই বা কম ওজন নিয়ে জন্মাচ্ছে, যেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগে এই হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ। “অপুষ্টির প্রভাব শুধু মায়ের ওপর নয়, নবজাতকের ওপরও ভয়াবহ হবে,” বলেন তিনি।এর আগে চলতি বছরের আগস্টে গাজা সিটি ও আশপাশের এলাকায় দুর্ভিক্ষ ঘোষণা করা হয়েছিল। খাদ্য নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইপিসি জানিয়েছিল, তখন পুরো গাজা উপত্যকায় ৫ লাখের বেশি মানুষ “বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে” ছিলেন।মার্কিন মধ্যস্থতায় ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদারের কথা থাকলেও, জাতিসংঘ জানায় বর্তমানে প্রতিদিন মাত্র ৭৫০ টন খাদ্য গাজায় প্রবেশ করছে—যা লক্ষ্যকৃত পরিমাণের এক-তৃতীয়াংশেরও কম।ফিলিস্তিনি এনজিও পিএআরসি–এর কর্মকর্তা বাহা জাকউত বলেন, “যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার দুই সপ্তাহ পরও গাজায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিস্কুট, চকলেট, কোমল পানীয় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু বীজ, জলপাইয়ের মতো পুষ্টিকর জিনিসপত্র নিষিদ্ধ।”তিনি জানান, কিছু ফল ও সবজি ঢুকলেও তার দাম আকাশচুম্বী। এক কেজি টমেটোর দাম যেখানে আগে ছিল ১ শেকেল, এখন তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৫ শেকেল (৪.৫০ ডলার)।এমন অবস্থায় অক্সফাম, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলসহ ৪১টি আন্তর্জাতিক সংস্থা এক খোলা চিঠিতে অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল নির্বিচারে গাজায় ত্রাণবাহী চালান আটকে দিচ্ছে।ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ২৮০ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭০ হাজার ৩৭৫ জন আহত হয়েছেন।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT