খুলনা, বাংলাদেশ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খু‌লনা লিও ক্লাবের নেতৃত্বে ইভানা ও জায়েদ
  দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট দেওয়া হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
  দেশ স্থিতিশীল, ব্যারাকে ফিরছে সেনাসদস্যরা: সেনাপ্রধান
  দেশে হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু
  চীনা সরকারের আমন্ত্রণে চীনে যাচ্ছে খুলনার ছেলে হামিমসহ ১৫ ছাত্রনেতা
  খুলনায় জোড়াগেটে সপ্তাহব্যাপী কোরবানির পশুর হাটের উদ্বোধন
  হজের সময় ইরানে হামলা নিয়ে সতর্কতার পর পিছু হটেন ট্রাম্প
  রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  রূপসায় মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শন_ডিসি হুরে জান্নাতের
  কেএমপি’র ট্রাফিক বিভাগে সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অচল দুদক, সচল হয়রানি

[ccfic]

ডেস্ক :

মামলার চার্জশিট বা চূড়ান্ত প্রতিবেদন, প্রতিটি ধাপে কমিশনের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু তিন মাস দুদকের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্য পদ খালি থাকায় দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যত একটি অচল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।এর ফলে একদিকে যেমন নিরীহ মানুষ সীমাহীন হয়রানির শিকার হচ্ছে অন্যদিকে সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযান মুখ থুবড়ে পড়েছে। দুদক সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রমের বড় একটি অংশ আটকে আছে অনুমোদনের অভাবে। নতুন মামলা দায়ের, চার্জশিট অনুমোদন, এমনকি সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রা নিষিদ্ধ করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সময়মতো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এটাকে নজিরবিহীন ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এর ফলে সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। কমিশনার পদ শূন্য হলে দুদক আইনে ৩০ দিনের মধ্যে নিয়োগের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু দুই মাস পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কমিশন গঠনের ব্যাপারে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় হতাশসংশ্লিষ্ট সবাই।তারা বলছেন, কমিশন না থাকায় আইনি কাঠামোর কারণেই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। দুদক আইন ও বিধিমালায় কমিশনের অনুপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়নি। কর্মকর্তারা পুরোনো অনুসন্ধান ও তদন্ত নিয়ে আছেন। কিন্তু কীভাবে সেসব অনুসন্ধান ও তদন্তের নিষ্পত্তি হবে, এর দিকনির্দেশনা না থাকায় তারাও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না।ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ২০০৪ সালে জন্মের পর থেকেই দুদকের স্বাধীনতা ও অকার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ ও জন-আস্থার সংকট চলে আসছে। এত দীর্ঘ সময়ের জন্য কমিশনহীন অবস্থা এবং অনিশ্চয়তা আগে কখনো হয়নি। বিষয়টি হতাশাজনক। তবে খুব বেশি অবাক হওয়ার মতো কিছু নয়। তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের দেশে দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে ক্ষমতার জবাবদিহিহীন চর্চার ক্ষেত্রে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অন্তর্বর্তী সরকার আইনি বাধ্যবাধকতা ও জনপ্রত্যাশা পদদলিত করে তথ্য কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন মাসের পর মাস গঠন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত।ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশেষ করে দুদকসহ সব নজরদারি প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো অঙ্গীকারের ভিত্তিতেই এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে।তিনি আরও বলেন, তাদের অজানা নয় যে কমিশন না থাকায় দুদক রুটিন প্রশাসনিক কাজের বাইরে এর মূল ম্যান্ডেট সংক্রান্ত কোনো কাজই বাস্তবে করতে পারছে না। পদত্যাগের আগে অনুমোদিত তদন্ত বা মামলা চলতে পারলেও নেতৃত্বহীন অবস্থায় সেগুলো বিভিন্নভাবে দুর্বলতা ও স্থবিরতায় ভুগছে। বাস্তবে এ অবস্থা দুর্নীতিসহায়ক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে নতুন কমিশন গঠনের আইনগত বাধ্যবাধকতা যে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা সরকারের জন্য বিব্রতকর। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের দুদক সংস্কার-সংক্রান্ত প্রতিবেদনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় থেকে দুদক আইন-২০০৪-এর অধিকতর সংশোধনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ২৩ ডিসেম্বর। নতুন সরকার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর সংসদের অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। এই দিনেই দুদক-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়।ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে পাস হয় ১১৩টি, বাতিল হয় সাতটি। বাকি ১৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আইন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ অধিবেশনে উত্থাপনের দিন থেকে গত ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ৩০ দিন পার হওয়ার পর ওই ১৩টি অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারিয়েছে। গত ১১ এপ্রিল থেকেই দুদক আইন-২০০৪ পূর্ণাঙ্গভাবে বহাল হয়েছে।আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ গ্রহণ না করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ ওই অধ্যাদেশ ছিল সংবিধানের মূল চেতনার পরিপন্থি। এতে তদন্ত ও বিচার ছাড়াই সম্পদ জব্দ করাসহ চরম স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। কাউকে বিনাবিচারে সাজা দেওয়া কেবল বেআইনি নয়, রীতিমতো অপরাধ। কিন্তু ইউনূস সরকার দেড় বছর ধরে এই কাজটি করছে এই অধ্যদেশ জারি করে। বর্তমানে বহাল দুদক আইন-২০০৪ অনুযায়ী, পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটিতে যারা থাকবেন তারা হলেন- সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি, হাই কোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতি, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সদ্য বিদায়ি সচিব এবং সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই সার্চ কমিটি গঠিত হয়নি। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, শিগগিরই একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হতে পারে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT