
মোল্লা জাহাঙ্গীর আলম // আসন্ন রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খুলনা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিএম কামরুজ্জামান টুকুর প্রচারণা এখন তুঙ্গে। শুক্রবার উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের পাঁচানী, কলোনি ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও লিফলেট বিতরণ করেন তিনি। এ সময় তিনি এলাকাবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন চেয়ে বলেন, রূপসাকে আধুনিক ও জনবান্ধব উপজেলা গড়তে চান তিনি।
সকাল থেকেই টিএসবি ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া- মহল্লায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে হেঁটে হেঁটে প্রচারণা চালান টুকু। পথে পথে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন, তাদের সমস্যার কথা শোনেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে লিফলেট তুলে দেন এবং নিজের রাজনৈতিক ভাবনা তুলে ধরেন। শিশু-বৃদ্ধ সব বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
গণসংযোগকালে টুকু বলেন, “আমি জাতীয়তাবাদী শক্তি ও শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হয়ে সারাজীবন মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। রূপসার মানুষ যদি সুযোগ দেয়, দলীয় নমিনেশন পেলে সবার সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাধ্যমে জয়লাভ করে এই উপজেলাকে উন্নয়নের রোল মডেল বানাতে চাই। রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—সব ক্ষেত্রে রূপসার চেহারা বদলাতে হবে।
তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শক্তিই বিএনপির মূল শক্তি। তাই নির্বাচনে জিততে হলে তৃণমূল থেকে শুরু করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বিএনপি মাঠে নেমেছে এবং রূপসার প্রতিটি ভোটারকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে চায় দল।
গণসংযোগে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন ফ ম মনিরুল ইসলাম, শেখ শওকত আলী, নাজমুল ইসলাম সোহাগ, নিজাম উদ্দিন শেখ, আসাদুর রহমান পাইক, ফজলু মেম্বর, শেখ নাসির উদ্দিন, আরিফ ফকির, গোপাল মিশ্র, জাল উদ্দিন, ওহিদুল ইসলাম, ইসরাইল বাবু, জি এম জাহিদুজ্জামান, মেহরাব হোসেন, ইমরান শেখ, শাহিদুল ইসলাম, এস এম নাসিম, সাগর শেখ, সুজন শেখ, রমজান গোলদার, সোহাগ খন্দকার, আবুল হোসেন, সুমন শেখ, ইব্রাহিম খলিল, রুবেল শেখ, তালেব শেখ, নওসাদ ফৌউজদার, রায়হান শেখ, তারেক শেখ, সোহেল শেখ, অপু দাসসহ আরও অনেকে।
স্থানীয়রা জানান, টুকু দীর্ঘদিন ধরে রূপসার রাজনীতিতে সক্রিয়। মাঠ পর্যায়ে তার পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এ কারণে তার গণসংযোগে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিচ্ছে। অনেকেই বলছেন, এবার নতুন মুখ হিসেবে টুকুকে সুযোগ দিলে উপজেলার উন্নয়নে গতি আসতে পারে।
টিএসবি ইউনিয়নের পাঁচানী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “টুকু ভাই আমাদের এলাকায় এসে সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। আগে এমন করে নেতারা আসত না। আমরা চাই এমন মানুষই জনপ্রতিনিধি হোক। কলোনি এলাকার এক নারী ভোটার বলেন, “উনি লিফলেট দিয়ে বলেছেন, জিতলে মেয়েদের জন্য কাজ করবেন। আমরা চাই রাস্তা-ঘাট ভালো হোক, মেয়েদের নিরাপত্তা বাড়ুক।
রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপিতে এখন মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, খুলনা জেলা বিএনপির নেতৃত্ব প্রার্থীদের মাঠের জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক অবস্থান যাচাই করছে। সে হিসেবে টুকুর এই গণসংযোগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রূপসায় বিএনপির ঘাঁটি শক্ত হলেও ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে হলে ধারাবাহিক প্রচারণা দরকার। টুকুর মতো নেতারা যদি তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখেন, তাহলে দল উপকৃত হবে। গণসংযোগ শেষে টুকু বলেন, “আমি ভোটের রাজনীতি নয়, মানুষের রাজনীতি করি। রূপসার মানুষের সুখ- দুঃখের সাথী হতে চাই। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, আমি কথা দিচ্ছি, রূপসাকে বদলে দেব।
এদিকে টিএসবি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় টুকুর পোস্টার-লিফলেট ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার প্রচারণার ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, মাঠে তাদের তৎপরতাও তত বাড়ছে।
সব মিলিয়ে রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে টিএসবি ইউনিয়নে জিএম কামরুজ্জামান টুকুর গণসংযোগ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, দলীয় মনোনয়ন এবং ভোটারদের রায় শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যায়।
