খুলনা, বাংলাদেশ | ২৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  দীর্ঘ ৩০ বছরের কর্মজীবনের সমাপ্তি: ভোলাহাটে গ্রাম পুলিশ নজরুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনা
  গোমস্তাপুরে গৃহবধূর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা
  ডুমুরিয়ায় পোল্লা চাষে কৃষকের অভাবনীয় সাফল্য: লাভের মুখ দেখছেন খামারিরা
  সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে বাবলু গাজী নামে এক মৌয়াল আহত
  ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই
  চিকিৎসা শেষে খুলনায় ফিরেছেন তুহিন, নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি
  বিশ্বকাপ ফুটবল, বাকি মাত্র ৩০ দিন
  শিক্ষা কারিকুলাম ঢেলে সাজাচ্ছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
  খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য মনোনীত হলেন এমপি আলি আসগার লবি
  জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁ এর অভিযান অন লাইন জুয়ার এজেন্ট গ্রেফতার।

ডুমুরিয়ায় পোল্লা চাষে কৃষকের অভাবনীয় সাফল্য: লাভের মুখ দেখছেন খামারিরা

[ccfic]

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া, খুলনা: খুলনার ডুমুরিয়ায় চলতি মৌসুমে পোল্লা বা চিচিঙ্গার বাম্পার ফলনে মুখে হাসি ফুটেছে কৃষকদের। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ফলন হয়েছে বলে জানা গেছে।অনেক কৃষক এখন সনাতন পদ্ধতির বদলে ‘মালচিং’ এবং ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ ব্যবহার করে বিষমুক্ত সবজি চাষ করছেন। বিশেষ করে ‘রোহিণী’ বা উন্নত হাইব্রিড জাতের পোল্লা চাষে খরচ কম কিন্তু ফলন অনেক বেশি হচ্ছে।খুলনার‌ ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাত্র ২৫-৩০ শতাংশ জমিতে পোল্লা চাষ করে অনেক কৃষক খরচ বাদে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাভ করছেন।‌ডুমুরিয়া উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের গোনালী গ্রামের শাহজাহান মিস্ত্রীর ছেলে ইউসুফ আলী ৫০শতক জমিতে পোল্লার চাষ করে ‌এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।আগে অন্য ফসল চাষে যা লাভ হতো, এখন পোল্লা চাষে তার চেয়ে দ্বিগুণ আয় হচ্ছে। বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো,” বলেন স্থানীয় এক সফল কৃষক।বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিচিঙ্গা ১৩০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পোল্লা ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার কারণে কৃষকরা এখন জমি থেকেই সরাসরি পাইকারদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন, যা তাদের যাতায়াত খরচ কমিয়ে দিচ্ছে।ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, পোল্লা চাষে সফল হতে হলে সঠিক সময়ে বীজ বপন এবং সুষম সার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। লতানো এই সবজির জন্য মাচা বা জাংলা মজবুত হওয়া জরুরি, যাতে ফলের ভারে তা ভেঙে না পড়ে।ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন:”ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে এবার পোল্লা বা চিচিঙ্গার যে বাম্পার ফলন হয়েছে, তা আমাদের প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার নতুন পথ দেখাচ্ছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করছি।”তিনি আরো বলেন বিষমুক্ত ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন নিশ্চিত করতে কৃষকরা এখন জৈব সার এবং সেক্স ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করছেন, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পোল্লা চাষে অল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ায় অনেক শিক্ষিত যুবকও এখন কৃষিতে এগিয়ে আসছেন। ডুমুরিয়ার এই সফলতাকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে আমরা বাজারজাতকরণ ও বিপণন ব্যবস্থায় কৃষকদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবো।”

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT