খুলনা, বাংলাদেশ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম
  ‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ জনগণ
  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

খুলনার কৃষকদের দুর্ভোগ, বৃষ্টিতে ডুবেছে বোরো ক্ষেতশ্রমিক সংকটে বাড়ছে ক্ষতির শঙ্কা

[ccfic]

রাসেল আহমেদ:

খুলনায় মৌসুমের শেষ সময়ে টানা অতি বৃষ্টিতে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় পানির নিচে তলিয়ে গেছে পাকা ধানক্ষেত। একই সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের আবাদও ক্ষতির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে শ্রমিক সংকট ও বাড়তি মজুরিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খুলনায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও আবাদ হয়েছে ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টরে। তবে মৌসুমের শেষদিকে টানা বৃষ্টিতে অন্তত ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান ও সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় প্রায় ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো ক্ষেত পানিতে ডুবে গেছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিলে খুলনায় স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত নয় বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মে মাসের শুরুতেও কয়েক দফা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর ও মধুগ্রাম এবং রূপসা উপজেলার বিল জাবুসা এলাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। অনেক কৃষক ধান পাকলেও সময়মতো কাটতে পারেননি। কোথাও আবার কাটা ধান শুকানোর আগেই বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে।এদিকে তেরখাদা, রূপসা ও ডুমুরিয়ায় শ্রমিক সংকট নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সময়মতো শ্রমিক না পাওয়ায় অনেক কৃষক পাকা ধান কাটতে পারছেন না। ফলে বৃষ্টির মধ্যে ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে ধান। এসব এলাকায় শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। জেলার অন্য এলাকাগুলোতে মজুরি ছিল ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে।রূপসার বাগমারা গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এবার ধানের ফলন ভালো হওয়ার আশা ছিল। কিন্তু ধান পাকতেই টানা বৃষ্টি শুরু হয়। বিল জাবুসার জমি পুরো পানির নিচে চলে গেছে। অনেক ধানের শীষ থেকে ধান ঝরে পড়ছে। এখন ধান কেটে ঘরে তুললেও খরচ উঠবে কি না, সেই চিন্তায় আছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘শ্রমিক সংকট এবার বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেশি মজুরি দিয়েও সময়মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে আবার বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষতি আরও বাড়ছে।’ডুমুরিয়ার কৃষক সৈয়দ মোকাম্মেল হোসেন বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমি দীর্ঘ সময় পানির নিচে ছিল। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল নষ্ট হয়েছে। অনেকে ধান কেটেও ঘরে তুলতে পারেননি। বৃষ্টিতে সেই ধানও নষ্ট হয়েছে।’কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করেছেন। জেলায় হেক্টরপ্রতি গড়ে ৪ দশমিক ৭৪ টন চাল উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ক্ষতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ চলছে।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT