
ডেস্ক রিপোর্ট :জেমস আব্দুর রহিম রানা:
যশোরের মণিরামপুরে অপহৃত এক নাবালিকা মেয়েকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। দ্রুত ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে খুলনা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের এমন তৎপরতায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও জোরদার হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের একটি সাধারণ পরিবারের ১৩ বছর বয়সী ওই কিশোরী গত ১ মে দুপুরে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আত্মীয়-স্বজন ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো তথ্য না পেয়ে তারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানিয়ে শেষ পর্যন্ত মণিরামপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।জিডি দায়েরের পরপরই পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে তদন্তে নামে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুলটিয়া গ্রামের এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে ওই কিশোরীর প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে আসছিল। পরিবারের অসম্মতির কারণে ক্ষোভ থেকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।পুলিশ জানায়, অপহরণের পর মেয়েটিকে খুলনার একটি স্থানে গোপনে রাখা হয়। তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার চেষ্টা করা হয়, যাতে সহজে তার অবস্থান শনাক্ত করা না যায়।তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অনুসন্ধান এবং মাঠপর্যায়ে একাধিক টিম গঠন করে অভিযান পরিচালনা করে। টানা ৪৮ ঘণ্টার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর অবশেষে খুলনা থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় তারা।উদ্ধারের পর মেয়েটিকে ফিরে পেয়ে তার পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার অবসান ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দারাও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।এ ঘটনায় প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও পুলিশ নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেছে বলে এলাকাবাসীর অভিমত। তারা মনে করছেন, কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।এ বিষয়ে মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ বলেন, “সাধারণ ডায়েরি পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করি। প্রযুক্তি, গোপন তথ্য ও মাঠপর্যায়ের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মেয়েটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”তিনি আরও বলেন, “আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। অপহরণসহ যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
