
নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক সাংবাদিক ও কৃষি উদ্যোক্তার ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভুক্তভোগী মোঃ শাহজাহান মোল্লা (৫৫), পিতা মৃত আবুল কালাম মোড়ল, উপজেলার নাচুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নিজেকে সাংবাদিক ও কৃষি উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এ অভিযোগ করেন।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে তিনি তেরখাদা থানাধীন নাচুনিয়া এলাকার মনা মিয়ার ঘের সংলগ্ন পাকা রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জেরে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে তারা এলোপাতাড়ি মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা তার কাছ থেকে একটি ভিভো Y31D (৮/১২৮) মডেলের মোবাইল ফোন, একটি টাইমার ঘড়ি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মাস্টারকার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নগদ ১৩ হাজার ১৫৫ টাকা ছিনিয়ে নেয়।এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে কেয়া (২৫), রবিচান (৩৫), মুরাদ মোল্লা (৩৫), মিরাজ হোসেন (৩০) ও রূপা বেগম (২৮)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা সবাই নাচুনিয়া এলাকার বাসিন্দা বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। থানায় দেওয়া অভিযোগে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।স্থানীয়দের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে অভিযোগে বলা হয়।পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত অবস্থায় শাহজাহান মোল্লাকে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিনি সুস্থ হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।এ বিষয়ে তেরখাদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, “এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পাশাপাশি থানায় তিনটি জিডিও রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”অন্যদিকে ভুক্তভোগী শাহজাহান মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, থানায় অভিযোগ করার পর থেকে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন।এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
