খুলনা, বাংলাদেশ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ট্রাম্পের হুমকিতেও অনড় ইরান, শঙ্কা থাকলেও বৈঠকের ইঙ্গিত
  একই পরিবারের ৪ জন খুন, মিলেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
  তেরখাদায় সাংবাদিক ও কৃষি উদ্যোক্তার ওপর হামলা-ছিনতাই, থানায় অভিযোগ
  ২৪ ঘণ্টায় সাত খুন, জামায়াত আমিরের ক্ষোভ
  বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
  যুদ্ধে ১৩০০ স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত, তবুও থেমে থাকেনি ইরানের শিক্ষা কার্যক্রম
  আমি যদি কখনো সংসদে যাই, আপনাদের ভোটেই যাব : তাসনিম জারা
  তেরখাদার বারাসাতে ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হচ্ছেন এফ এম উবায়দুল্লাহ
  সুইপারের মা-হারা কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি
  খুলনায় বস্তাবন্দি লাশের রহস্য উন্মোচন: পরিচয় শনাক্তের পর ঘাতক গ্রেফতার

গ্রেপ্তারের ১০ মিনিট পর হাসপাতালে আসামির মরদেহ ফেলে পালাল পুলিশ

[ccfic]

খুলনার সময়ের খবর ডেক্স :

রংপুর নগরীতে গ্রেপ্তারের ১০ মিনিট পর পুলিশ হেফাজতে এক আসামির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর স্বজন ও এলাকাবাসী লাশ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় পুলিশ।

নিহত মুকুল মিয়া নগরীর ধাপ চিকলীভাটা এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি পেশায় একজন ট্রাকচালক।

এদিকে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও এলাকাবাসী রমেক হাসপাতাল থেকে লাশ নিয়ে মেডিকেল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী। পরে তিনি দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার সামনে নিহত মুকুল মিয়ার স্ত্রী লাভলি বেগম জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে কোতোয়ালি থানার এএসআই মনিরুল ইসলামসহ চার পুলিশ সদস্য তাদের বাড়ি থেকে তার স্বামী মুকুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যান।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার ১০ মিনিট পর তাদের প্রতিবেশী রমেক হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় মাহিন মোবাইলে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগের সামনে একটি ট্রলিতে মুকুল মিয়ার লাশ দেখতে পান। পরে তারা ঘটনাস্থলে এসে ট্রলিতে তার স্বামীর লাশ দেখতে পেলেও পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। শুধু একজন কনস্টেবল সেখানে বসে থাকলেও পরিবারের সদস্যদের তোপের মুখে তিনিও সটকে পড়েন।

লাভলী বেগম বলেন, সকাল ১০টার দিকে পুলিশের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় আসতে বলা হয়েছে। আমরা তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যারা এটা করেছে আল্লাহ তাদের বিচার করবে।

তবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহত মুকুল মিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী আদুরী বেগম বলেন, ‘নগরীর বুড়িরহাট এলাকায় গাড়ি সংক্রান্ত একটি মামলার আসামি ছিলেন তিনি।’

এ সময় থানায় উপস্থিত নিহত মুকুল মিয়ার মেয়ে মুতমাইন্না তূর্য বলেন, ‘গ্রেপ্তারের ১০ মিনিট পর তারা মৃত্যুর সংবাদ পান। কিন্তু তার বাবাকে হাসপাতালেও ভর্তি করাও হয়নি। পুলিশ হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে গেছে।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কোতোয়ালি থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মনিরুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি এ বিষয়ে ওসির সঙ্গে কথা বলতে বলেন এবং কল কেটে দেন। তবে এ সময় থানায় ওসি শাহজাহান আলী উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে তাকে মোবাইলে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে বেলা ১১টার দিকে থানা থেকে কোতোয়ালি জোনের সহকারী কমিশনার সুকুমার মোহন্ত, সহকারী কমিশনার (প্যাট্রোল) মো. নজির হোসেন ও কোতোয়ালি থানার ওসি তদন্ত রফিকুল ইসলাম থানা থেকে বেরিয়ে যান। এ সময় তাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার সুকুমার মোহন্ত পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়ে তারা চলে যান।

রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী কালবেলাকে বলেন, ‘জনগণ শান্ত আছেন এবং ভুল বোঝাবুঝির বুঝতে পেরেছে এবং ময়নাতদন্ত ছাড়া ডেড বডি (মরদেহ) চাচ্ছে।’

তবে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়া নিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। এ ঘটনার প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT