খুলনা, বাংলাদেশ | ৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  খুলনায় নারীকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা
  শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানালেন দাকোপের শিক্ষক ও সংস্কৃতি কর্মী দেবব্রত সরদার
  খুলনায় যুবককে গুলি করে মোবাইল ফোন ছিনতাই
  নগরীতে ট্রেনের ধাক্কায় দুইজনের মৃত্যু
  প্রবাস আয় এক বছরে বেড়েছে ১৭.৩০ শতাংশ
  বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়
  ডুমুরিয়ার রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার উদ্যোক্তা মিলনের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া।
  ডুমুরিয়ার রংপুর ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার উদ্যোক্তা মিলনের অকাল মৃত্যুতে এলাকায়
  খর্নিয়ায় ব্যক্তিগত জমির ওপর জোরপূর্বক ইটের সলিং নির্মাণের অভিযোগ
  ঈদগাঁওয়ে চোলাইমদসহ তিন জনকে কারাদণ্ড 

সারাদেশে গণতন্ত্র ফেরার ভোট শুরু

[ccfic]

নিজস্ব প্রতিনিধি :গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দেড় বছর পর আজ বৃহস্পতিবার একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট দিচ্ছেন দেশের মানুষ। একই সঙ্গে গণভোটের মাধ্যমে সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবের পক্ষে-বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দিয়ে মত জানাবেন তাঁরা।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এবারের এই নির্বাচন গতানুগতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো নয়। শেষ পর্যন্ত একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে এটি হতে পারে গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রথম ধাপ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে তা হবে সংবিধানের মৌলিক সংস্কার বাস্তবায়নের সূচনা।আজ সকাল সাড়ে সাতটা থেকে শুরু হয়েছে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। চলবে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসীর উদ্দিন।এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীন অনুষ্ঠিত সর্বশেষ তিনটি জাতীয় নির্বাচনই ছিল বিতর্কিত। এর মধ্যে ২০১৪ সালের নির্বাচন ‘একতরফা’, ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ‘আমি-ডামির নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। সর্বশেষ তিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে দুজন এখন কারাগারে। ভোটারদের একটি বড় অংশই বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পারেনি। যার কারণে এবার ভোট নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা রয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া সার্বিকভাবে ভোটের প্রচারও ছিল শান্তিপূর্ণ। ভোটের দিনও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকবে বলে আশা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোট গ্রহণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি আছে।ভোটের দিন দায়িত্ব পালন করবেন সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সাড়ে ৯ লাখের বেশি সদস্য। ভোট দেওয়ার জন্য দুই দিন ধরে বিপুলসংখ্যক মানুষকে উৎসবমুখর পরিবেশে বাস, লঞ্চ, ট্রেনে গ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে। ২৯৯টি আসনে এবারের নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৫০টি দল অংশ নিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে ইসি। ফলে দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।১৯৯১ সাল থেকে সব কটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবার ভোটে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী জোটের মধ্যে। স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো কোনো জাতীয় নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী।এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে ১৮ থেকে ৩৭ বছর বয়সী ভোটার আছেন ৫ কোটির বেশি। অন্যদিকে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেক নারী। ফলাফল নির্ধারণে তরুণ ও নারী ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।নির্বাচন ও সংস্কারের প্রেক্ষাপট: ২০০৮ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছিল আওয়ামী লীগ। এরপর উচ্চ আদালতের এক রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধান সংশোধন করেছিল দলটি।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর শেখ হাসিনার সরকার ক্রমে কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে। গণতান্ত্রিক পরিসর ক্রমে সংকুচিত হতে থাকে। দলীয় সরকারের অধীনে তিনটি জাতীয় ও অনেকগুলো স্থানীয় সরকারের বিতর্কিত নির্বাচন পুরো নির্বাচনব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেয়। পতনের আগে রাজনৈতিক অঙ্গনে ফ্যাসিবাদী হিসেবে পরিচিতি পান আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে পতন হয় আওয়ামী লীগ সরকারের। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাসহ শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনেকেই ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। শুরু থেকে অন্তর্বর্তী সরকার তাদের তিনটি ম্যান্ডেট বা অর্পিত দায়িত্বের কথা বলে আসছে। সেগুলো হলো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন।অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় আজ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের কিছু ঘটনার বিচার হয়েছে। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।অন্যদিকে সংস্কার আনার লক্ষ্যে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ, জনপ্রশাসনসহ বেশ কিছু খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার। প্রথমে গঠন করা ছয়টি সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কমিশনের দীর্ঘ আলোচনা শেষে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়। এগুলো নিয়ে তৈরি করা হয়েছে জুলাই জাতীয় সনদ। এই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৪৮টি সংবিধান-সম্পর্কিত। এগুলো নিয়ে হচ্ছে আজকের গণভোট।বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা করে সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, কার্যকর ভারসাম্যের অনুপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য একটি গুরুতর হুমকি। ক্ষমতার ব্যাপক কেন্দ্রীকরণ প্রধানমন্ত্রীকে স্বৈরশাসকে পরিণত করেছে। সাংবিধানিক সংস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য—ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার উত্থান রোধ, রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকেন্দ্রীকরণ এবং পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন।‘হ্যাঁ’ জিতলে আসবে পরিবর্তন: গণভোটে সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত যেসব প্রস্তাব থাকছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা কিছুটা কমার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বাড়বে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। সাংবিধানিক পদে নিয়োগ হবে সরকারি দল, বিরোধী দল ও ক্ষেত্রবিশেষে বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে। কোনো বিষয়ে সংসদে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনতার আওতা বাড়বে। সব মিলিয়ে রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। অবশ্য সংস্কার প্রস্তাবের কিছু কিছু বিষয়ে বিএনপির ভিন্নমত ছিল।গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে আগামী সংসদ নিয়মিত কাজের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে সংবিধানে পরিবর্তনগুলো নিশ্চিত করবে।

আরও সংবাদ

ঈদগাঁওতে ১৬ অক্টোবর থেকে শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে, প্রতীমার কাজ চলমান  নিজস্ব প্রতিনিধি,ঈদগাঁও  ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশে শুরু হতে যাচ্ছে সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহৎ ধর্মীয় শারদীয়া দুর্গোৎসব। ১৬ অক্টোবর থেকে সারাদেশের ন্যায় ঈদগাঁওতেও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই উৎসব। জানা যায়, প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ঈদগাঁও উপজেলার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নের সনা তনী সম্প্রদায়ের লোকজন শারদীয়া দুর্গোৎসব পালন করবেন ব্যাপক উৎসাহমুখর পরিবেশে। আর কয়টা দিন পার হতে না হতে বিভিন্ন মন্দিরে সাজসজ্জাসহ ডেকোরেশনের কার্যক্রম শুরু হবে বলেও এক সূত্রে জানায়। তবে কিছু মন্দিরে প্রতীমা তৈরী কাজ প্রায় শেষের দিকে, কিছুতেই প্রতীমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। এদিকে ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদের হিন্দুপাড়া, বাজারের কেন্দ্রীয় কালী মন্দির, ইসলামাবাদের হিন্দুপাড়া,হরিপুর, ঈদগাঁওর পালপাড়া, চৌধুরী পাড়া,বঙ্গিম বাজার এলাকা প্রতিবছর শারদীয়া দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সনাতনীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে ঘিরে নারী পুরুষ,তরুন-তরুনীরা ব্যাপক আনন্দ উল্লাসে মুখরিত হয়ে উঠে। এছাড়াও শারদীয়া দুর্গোৎসব সফল এবং স্বার্থক করতে মন্দির ভিত্তিক নানান কমিটিও গঠন করা হয়।  সূত্রে জানা যায়, এই বছর ঈদগাঁও উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১৭টিতে প্রতীমা পূজা ও ১২টিতে ঘট পূজা হতে যাচ্ছে।  জালালাবাদের হিন্দুপাড়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বিকাশ কান্তি দে জানান, প্রতীমা তৈরীর কাজ প্রায় শেষ। আর কিছুদিন পর ডেকোরেশনসহ সাজসজ্জার কাজ শুরু হবে।  ঈদগাঁও চৌধুরী পাড়ার পল্লী চিকিৎসক মিন্টু জানান,শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রতীমা তৈরীর কাজ চলমান। তবে এখনো শুরু হয়নি সাজসজ্জাসহ সৌন্দর্য্যের কাজ।  ঈদগাঁও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাবেক মেম্বার বাবুল কান্তি দে মুঠোফোনে জানান, এবাবের দুর্গোৎসবে ঈদগাঁও উপজেলায় ১৭টি প্রতীমা পূজা, ১২টি ঘট পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ অক্টোবর থেকে এই শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হতে যাচ্ছে।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT