
জি. এম. ফিরোজ, ডুমুরিয়া:
ভেঙে পড়েছে মাটির ঘর। সেই ঘরের জায়গাতেই জন্মেছে একটি বাঙ্গিগাছ। গাছজুড়ে থোকায় থোকায় বাঙ্গি ধরেছে। অভাবের সংসারে সেই বাঙ্গিই অনেক দিন ধরে তরকারির চাহিদা মেটাচ্ছে। কিন্তু তাতেও কাটছে না দারিদ্র্যের কষ্ট। পলিথিনের ছাউনির নিচে স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে জীবনসংগ্রাম করছেন খুলনার ডুমুরিয়ার উপজেলা ৩নং রুদাঘরা ইউনিয়নের শোলঘাতিয়া দাসপাড়ার দীপক দাস (৫০)।দীপক দাসের স্ত্রী কালী দাসী (৪৬)। ঝুড়ি তৈরি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই কোনোমতে চলে সংসার। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে ভেঙে যাওয়া ঘরটি নতুন করে তৈরি করা তাঁর কাছে প্রায় অসম্ভব।দীপকের মেয়ে চৈতি দাস অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। কিন্তু অর্থাভাবে ছেলে সুন্দর দাসকে পড়াশোনা ছেড়ে দিতে হয়েছে। পরিবারের আর্থিক অনটন শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই কেড়ে নেয়নি, সন্তানের শিক্ষাজীবনেও ফেলেছে প্রভাব।দীপকের বোন মিতা দাসের (৪৭) সংসার নিয়েও রয়েছে টানাপোড়েন। বোনের জামাইয়ের পাওনা পরিশোধ করতে না পারায় মিতা দাসও এখন ভাইয়ের সংসারের ওপর বাড়তি চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফলে সীমিত আয়ে বড় পরিবারের ব্যয় সামলাতে আরও বেগ পেতে হচ্ছে দীপককে।একসময় যে মাটির ঘরটি ছিল পরিবারের আশ্রয়, সেটি ভেঙে পড়ার পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি দীপক। ঘরের জায়গায় গজিয়ে ওঠা বাঙ্গিগাছটি এখন সংসারের তরকারির অভাব কিছুটা দূর করছে। কিন্তু মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব রয়েই গেছে।বর্তমানে পলিথিন দিয়ে ছাউনি দেওয়া ঘরেই পরিবার নিয়ে দিন কাটছে তাঁর। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই পরিবারটির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন একটি নিরাপদ ঘর।অসহায় দীপক দাসের আকুতি—কেউ যদি তাঁর বাঁশেট চটার বেড়ায় পলিথিনের ছাউনির ঘরটি নতুন করে তৈরি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন, তাহলে পরিবারটি একটু নিশ্চিন্তে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেত। সহৃদয় ব্যক্তি ও সামর্থ্যবানদের সহযোগিতার প্রত্যাশায় দিন কাটছে তাঁর।
