
নাজমুস সাকিব, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপন দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদ।নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে হবে—পর্যন্ত তিনি উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে তিনি তাঁর বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার দীর্ঘদিন ধরে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ২০ বছরেরও বেশি। জৈব কৃষি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই গ্রামীণ উন্নয়ন তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে স্নাতক ও কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে জাপানের ইয়ামাগুচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃষিতে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর এবং তোত্তোরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়ো-প্রোডাকশন সায়েন্সে পিএইচডি অর্জন করেন। জৈব কৃষি নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যুক্ত ছিলেন। গবেষণা ও শিক্ষাদানের পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিয়েও তাঁর কাজ রয়েছে।এদিকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য ড. মো. নাজমুল আহসানকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনের (ঙ) নম্বর শর্তানুসারে এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৫ এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে উক্ত পদ হতে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একইসঙ্গে তাকে তার মূল পদ—খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক হিসেবে পুনরায় যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্যের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ চার বছর বা অবসর গ্রহণের তারিখ পর্যন্ত—যেটি আগে আসে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। জনস্বার্থে জারি করা এ নিয়োগ আদেশের মধ্য দিয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। কৃষি শিক্ষা, গবেষণা, সম্প্রসারণ ও টেকসই উন্নয়নে অভিজ্ঞ অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও গবেষণা কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
