খুলনা, বাংলাদেশ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

Breaking News

  ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় বি এনপি নেতা আবুল কাশেম
  ‎ডুমুরিয়ায় ভদ্রানদী খননের মাটি বিক্রি সিন্ডিকেট আবারও সক্রিয়, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বিদ্ধ জনগণ
  উখিয়ায় ইয়াবাসহ ৪ ভাই-বোন আটক
  দাকোপ উপজেলা নবগঠিত যাত্রা শিল্পী পরিষদের পরিচিতি সভা
  ডুমুরিয়ায় সরকারি রাস্তা দখল করে ভাড়াটিয়া দোকানদারদের পসরা: চরম ভোগান্তিতে চালক ও সাধারণ মানুষ
  তেরখাদায় উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শনে এমপি হেলাল, আবনালী বিলে পোনা অবমুক্ত
  খুলনায় ১১ দলের বিভাগীয় সমাবেশ আরেকটি ‘অনিবার্য বিপ্লবের’ প্রস্তুতি নিন —–ডা. শফিকুর রহমান
  আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের পাশে সরকার, ডুমুরিয়ায় জিআর চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ
  যশোরের কেশবপুর-বেতগ্রাম সড়কের বেহাল দশা, দ্রুত সংস্কারের জোর দাবী
  কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের মাসিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

ধর্মপাশার সুখাইড় বাজারে প্রশাসনের সহায়তায় বেদখল জায়গা ফেরত পেয়েছেন অভিজিৎ সরকার

[ccfic]

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সহায়তা নিয়ে খরিদাকৃত বেদখল হওয়া জায়গা ফেরত পেয়েছে ভূক্তভোগী একটি পরিবার।শুক্রবার ধর্মপাশা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষের নেতৃত্বে সার্ভেয়ার রুহুল আমীন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ ও গণমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সরেজমিন এসে মাপজোঁক করে টিনসেটের দোকানকোঠা ভেঙ্গে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে আবেদনকারীকে ২১ শতক জায়গা বুঝিয়ে দেন। ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের মাধ্যমে কাঙ্খিত সেবা পেয়ে উচ্ছ্বসিত ভুক্তভোগী পরিবারটি।উল্লেখ্য ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ভূমি সংক্রান্ত জালিয়াতি, অবৈধ দখল এবং প্রতারণা রোধে একটি যুগান্তকারী ফৌজদারি আইন। ২০২৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে আইনটি কার্যকর হয়। সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের দেওয়ানি মামলার ভোগান্তি কমিয়ে দ্রুত অপরাধীদের শাস্তি ও প্রকৃত মালিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এই আইন প্রয়োগ করে বেহাত হওয়ায় মূল্যবান ভূমি ফিরে পেয়েছেন উপজেলার দীপু তালুকদার ও তার পরিবার। ধর্মপাশা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি), ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের মহজমপুর গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র সরকারের ছেলে অভিজিৎ সরকার ২৬৩ নং খতিয়ানে, আরএস ৩৩৫ নং দাগে, ০.০৫ একর এবং আরএস ৬০৫ নং দাগে ০.০৫ একর শ্রী সুমন চন্দ্র দাসের পুত্র ও একমাত্র উত্তরাধিকারী শুধন দাসের কাছ থেকে গত ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ২২৩৭ নং সাফ কবালা দলিলমূলে ক্রয় করেন। সুখাইড় গ্রামের মৃত সিতেস চন্দ্র দাসের ছেলে ব্রিপেশ চন্দ্র দাস ও অমর চন্দ্র দাস পৈত্রিক স্বত্তবলে আরএস ৩৩৫ নং দাগে ১৩ লাখ টাকায় ১১ শতক এবং আরএস ৬০৫ নং দাগে একই বংশের মৃত সুমন দাসের ছেলে শুধন দাস ১২ লাখ টাকায় ১০ শতক সুখাইড় বাজারে ভিটা জমি ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর ২২৩৮ নং সাফ কবালামূলে বিক্রি করেন। ক্রেতা দুটি দলিলমূলে ২১ শতক ভূমি দলিলমূলে নিজ নামে নামজারি করিয়ে সরকারি খাজনা পরিশোধ করে ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু গত ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ধর্মপাশা উপজেলার দিকজান গ্রামের চন্দ্র কুমার দাস, জাকির মিয়া, আয়না মিয়া, বাবুল মিয়া, কামনা দাস, রাজন দাস, টুটুল দাস, শুধন দাস ও শরিফ মিয়া রাতারাতি জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে অবৈধভাবে ভোগদখল শুরু করে। এ নিয়ে এলাকায় শালিস বিচার হলেও বিবাদীরা বিচার না মেনে অবৈধভাবে ভোগ দখলে থাকে। এ ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক অভিজিৎ সরকার থানায় মামলাও দায়ের করেন। পরে তিনি আম মোক্তার নামায় অভিজিৎ এর শ^শুড় সুনামগঞ্জ শহরের দীপু তালুকদারকে এই খরিদা জমিটুকু দেখভালের দায়িত্ব দিলে তিনি ধর্মপাশা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) গত ১৪ মে দখল প্রদানে সহযোগিতা চেয়ে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) দখলবাজদের একাধিক নোটিশ দেন। অবশেষে তিনি গত ২৬ জুন শুক্রবার এলাকায় সুখাইর মৌজা এলাকাস্থিত সুখাইর বাজারে গিয়ে দখলবাজদের উচ্ছেদ করে ভূমির মালিক অভিজিৎ সরকারকে দখলকৃত ১৮ শতক জায়গা বুঝিয়ে দেন। বাকি আড়াই শতক জায়গায় ঘরে মালামাল থাকায় দখলকারি ও এলাকাবাসীর আহ্বানে ১ সপ্তাহ সময় দেন। এ ব্যাপারে জমির মালিক অভিজিৎ সরকারের শ্বশুড় অভিযোগকারী দীপু দাস বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি। ধর্মপাশা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মহোদয়ের মাধ্যমে বাকি আড়াই শতক জায়গা এক সপ্তাহের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়ার সময় নিয়েছে। আমরা উনার কথা রেখেছি। এক সপ্তাহ পর আমরা আমাদের অবশিষ্ট জায়গায় দখল নেব।এ ব্যাপারে ধর্মপাশা উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) সঞ্জয় ঘোষ বলেন, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের অভিযোগ করার পর অভিযোগকারীর কাগজ পর্যালোচনা এবং যাছাই করে যারা অন্যায়ভাবে দখল করে রেখেছিল তাদেরকে একাধিক নোটিশ দিয়েছিলাম। অবশেষ শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে তাদের উচ্ছেদ করে জমির মালিককে জায়গা বুঝিয়ে দিয়েছি। বাকি আড়াই শতকে মালামাল থাকায় তারা এক সপ্তাহ সময়ে চেয়ে নিয়েছেন। এক সপ্তাহ পরে মালিককে জায়গা বুঝিয়ে দেবেন।

আরও সংবাদ

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

©2025 khulnarsamayerkhobor .com

Developed By: ShimantoIT