
পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি :
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল্যবান গাছ টেন্ডার ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং অফিসের বড় বাবুর বিরুদ্ধে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে থাকা লক্ষাধিক টাকা মূল্যের কয়েকটি পুরোনো ও মূল্যবান গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। তবে সরকারি সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে যে উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করার বিধান রয়েছে, তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায় , সরকারি সম্পত্তি বিক্রির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, মূল্য নির্ধারণ এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছে বিক্রির বিধান রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের গাছ বিক্রির ক্ষেত্রে এসব নিয়ম মানা হয় নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। তারা বলেন, সরকারি সম্পদ জনগণের সম্পদ। এসব সম্পদ বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তা গ্রহণযোগ্য নয়। হাসপাতালে সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর ও অফিস সহকারী পংকজ বাবুর যোগসাজসে গাছ বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান অফিস সহকারী (বড় বাবু) পংকজ বলেন, গাছ কেটে বিক্রির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তার দায়িত্ব কি জানতে চাইলে তিনি সেটাও বলতে পারেন নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক কর্মকর্তা ডাক্তার আলমগীর বলেন, গাছ সব ভোগতি এলাকার কিছু মানুষের চুলার মধ্যে। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডাক্তার রেহনেওয়াজ বলেন, আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। আমি যোগদানের পূর্বে এ ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি খোজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এ হাসপাতালে ইতিপূর্বে অনেক অনিয়মের খবর পাচ্ছি, আমি যোগদানের পর অনিয়ম বন্ধে কাজ করে যাচ্ছি।এদিকে বিষয়টি নিয়ে কেশবপুরে জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
